
ফিফা অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই চাপ, উত্তেজনা আর মুহূর্তে মুহূর্তে দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা। আজ দোহার অ্যাসপিরে স্টেডিয়ামে পর্তুগাল ও ব্রাজিলের দ্বৈরথে ঠিক এমনই নাটকীয়তার জন্ম হলো। চোখ ফেরালেই যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হাতছাড়া হয়ে যায়—দুই দলের এমন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হলো ভাগ্য পেনাল্টি শুটআউটে।
৯০ মিনিটে কোনো গোল না হওয়ায় রেফারি ম্যাচকে নিয়ে যান টাইব্রেকারে। প্রথম পাঁচ শটে দু’দলই সমান তালে গোল করে। এরপর সাডেন ডেথে গিয়ে ঘটে সব নাটক। ব্রাজিল তৃতীয় শটে বল বারের ওপর তুলে মারায় টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে একটু পিছিয়ে ছিল ব্রাজিল। তাদের দখল ছিল ৪৪ শতাংশের মতো। তবে আক্রমণে কোনো কমতি রাখেনি হলুদ জার্সিধারীরা—পর্তুগালের চারটির বিপরীতে আটটি শট নেয় ব্রাজিল। দুই দলই গোলমুখে দুটি করে শট নিলেও কেউই জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। যোগ করা সময়েও সমান সমান লড়াই চলে। শেষভাগে কোনো দলই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় শুটআউটে।
টাইব্রেকারে প্রথম শটেই গোল করে পর্তুগালের টমাস আলভেস। ব্রাজিলের ডেলও একই দিক দিয়ে বল পাঠান, গোলরক্ষক কুনহা যদিও দারুণ ডাইভ দেন, তবু বল ধরতে পারেননি।
পর্তুগালের দ্বিতীয় শটটি নিখুঁতভাবে নেন কা। ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান থিয়াগো, যিনি নিচু শটে ডানদিকে পাঠান বল।
আরও পড়ুনঃ
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৭ দলের কাছে ২ হালি গোলে উড়ে গেল ব্রুনাই
এই বায়ার্নকে থামাবে কে? দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে ছয় গোল শোধ!
এরপর সান্তিয়াগো সিলভা ও জোয়াও পেদ্রো পর্তুগালের হয়ে গোল করেন। ব্রাজিলের লুকাস আর ফেলিপেও নিজেদের শট থেকে গোল করে হিসাব সমান রাখেন।
পাঁচটি করে শট শেষে ফল না বদলালে শুরু হয় সাডেন ডেথ। এখানে প্রথম বড় ভুলটি করেন পর্তুগাল গোলরক্ষক কুনহা—তাঁর শট বারের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিলও; পাবলোর শট ফিরে আসে বার থেকে।
দ্বিতীয় শটে পর্তুগালের জোয়াও আরাগোয়া সফল হন। ব্রাজিলকে বাঁচিয়ে রাখতে গ্যাব্রিয়েল মেকও গোল করেন।
অবশেষে তৃতীয় সাডেন ডেথ শটে নেটো গোল করেন পর্তুগালের হয়ে। আর ব্রাজিলের ভাগ্য শেষ হয়ে যায় সিকুইয়ের ভুলে—তার শটও উড়ে যায় বারের ওপরে।
এভাবেই কঠিন লড়াইয়ের পর ব্রাজিলের স্বপ্ন থেমে যায় সেমিফাইনালেই।