
পিএসজির খেলায় আজ ছিল রক্ষণশীল দৃঢ়তা। তাই ফর্মের তুঙ্গে থাকা বায়ার্ন কেন নয়!, পিএসজিই কেন বেশি যোগ্য দাবিদার ফাইনালে যাওয়ার সেটারই প্রমাণ মিলে। প্রথম লেগের সেই এক গোলই ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেছে পিএসজি। যার ফলে বুদাপেস্টে(চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে) আর্সেনালের বিপরীতে লড়বে লুইস এনরিকের পিএসজি।
পিএসজি বনাম বায়ার্ন সেমি ফাইনালের প্রথম লেগে ৫-৪ গোলের গোল উৎসব হলেও,দ্বিতীয় লেগ হয়েছে অতি সাধারণ ১-১ গোলের ড্র। আজ (বৃহস্পতিবার) ম্যাচের শুরুর তৃতীয় মিনিটে দেম্বেলে এগ্রিগেট লিড ডাবল করে। সেই গোল ব্যবধান কমাতে বায়ার্নের নির্ধারিত সময়ের বাইরে চলে যায়। ৯০+৪’ মিনিটে হ্যারি কেইন ১-১ সমতায় নিয়ে আসলেও এগ্রিগেটে এক গোলের লিডে ছিল পিএসজি। শেষমেশ সেই এক গোলই ভিনসেণ্ট কোম্পানির বায়ার্নের বিদায় ঘন্টা বাজায়।
বায়ার্ন মিউনিখকে দুই লেগ মিলিয়ে নাটকীয় লড়াইয়ের পর বিদায় করে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পিএসজি। প্রথম লেগে পাওয়া সুবিধাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয় ফরাসি জায়ান্টদের। ফলে আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় শিরোপার মঞ্চে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে প্যারিসের ক্লাবটি। অন্য সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ২০ বছর পর ফাইনালে ফিরেছে মিকেল আরতেতার দল।
মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে দুই দলের লড়াই। পুরো ম্যাচে দুই গোলরক্ষক মিলিয়ে একাধিক নিশ্চিত গোল রুখে দেন। বায়ার্ন ১৮টি শট নিয়ে ৬টি অন টার্গেটে রাখতে সক্ষম হয়, অন্যদিকে পিএসজির ১৫ শটের মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। ম্যানুয়েল নয়্যার ও মাতভেই সাফোনভ দুজনই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সফরকারীরা। তৃতীয় মিনিটে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল আদায় করে নেয় পিএসজি। ফাবিয়ান রুইজ ও খভিচা কাভারাসখেলিয়ার দারুণ সমন্বয়ের পর বক্সে নিচু পাস পান উসমান দেম্বেলে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। নিখুঁত ফিনিশে বল পাঠিয়ে দেন জালে।
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে কাভারাসখেলিয়ার প্রভাব চোখে পড়ার মতো। ফেব্রুয়ারিতে অভিষেকের পর থেকে তিনি গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সরাসরি ২১টি গোলে অবদান রেখেছেন। একই সংখ্যক অবদান রয়েছে হ্যারি কেইনেরও। অন্যদিকে টুর্নামেন্টে নিজের অষ্টম গোল তুলে নেন দেম্বেলে।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় বায়ার্ন। ২৭তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের জোরালো শট অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। কয়েক মিনিট পরই শুরু হয় বিতর্ক। লাইমারের ক্রস মেন্দেসের হাতে লাগলেও পেনাল্টির বাঁশি দেননি রেফারি। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় বায়ার্ন বেঞ্চে।
এরপর আরও একবার পেনাল্টির দাবি তোলে জার্মান ক্লাবটি। ডি-বক্সের ভেতরে বল পিএসজি মিডফিল্ডারের হাতে লেগেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ভিএআর চেকের পরও সিদ্ধান্ত বদলাননি ম্যাচ অফিসিয়ালরা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে বায়ার্ন একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সাফোনভ বারবার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। বিশেষ করে মুসিয়ালার তৈরি করা আক্রমণ থেকে আসা বিপজ্জনক বল দারুণভাবে সামাল দেন পিএসজি গোলরক্ষক।
বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। হ্যারি কেইনের বুটের আঘাতে মাথায় চোট পান পাচো। কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। এরপর বায়ার্ন একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ৬২তম মিনিটে স্তানিসিচের দূরপাল্লার শট সহজে ধরে ফেলেন সাফোনভ।
৬৭ থেকে ৬৯ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়। বদলি হিসেবে নামা আলফোনসো ডেভিস ডান প্রান্ত ভেঙে দারুণ এক কাটব্যাক করেন। লুইস দিয়াসের নেওয়া শট প্রায় জালে ঢুকেই যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ রিফ্লেক্সে তা ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।
যোগ করা সময়েও হাল ছাড়েনি বায়ার্ন। কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক পরিস্থিতিও দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন পিএসজি গোলরক্ষক। শেষদিকে হ্যারি কেইন এক ঝলক জাদু দেখালেও সেটি আর ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। দুই লেগের হিসাব শেষে হতাশা নিয়েই বিদায় নিতে হয়েছে জার্মান জায়ান্টদের।