
সময় থেমে থাকে না। এক সময় যাদের যাদুতে কেঁপেছে ফুটবল বিশ্ব, তাদের কয়েকজন হয়তো এবারই শেষবারের মতো বিশ্বকাপের আলোয় নামবেন। কারও সামনে শেষ সুযোগ ট্রফি জয়ের, কারও সামনে ইতিহাসে অমর হওয়ার।
শেষ ২০২২ বিশ্বকাপে মেসি তার ক্যারিয়ারের অপূর্ণ থাকা একমাত্র বিশ্বকাপটিও জিতে নিয়েছিলেন। আর সেই সুবাদেই আর্জেন্টিনা দীর্ঘ ৩৬ বছর পর তাদের ৩য় বিশ্বকাপ ঘরে তুলে। মেসি কি পারবেন! তার শেষ বিশ্বকাপটাও রাঙ্গিয়ে রাখতে?
অভাগা যেদিকেই যায়, সাগর শুকিয়ে যায়। এই প্রবাদ বাক্যটা যেন ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। না ক্লাব-না দেশ, কোথাও দেখা পাননি মেজর কোনো ট্রফির দেখা। লেয়টন সিটির হয়ে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০১১ সালে। সেখান থেকে টটেনহ্যাম হটস্পার তারপর এখন বুন্দেসলিগার জায়ান্ট দল বায়ার্ন মিউনিখে। জার্মানে পারি দেওয়ার আগে জিতেনি প্রিমিয়ার লিগটাও। ইউরোর ফাইনালে গিয়েও জেতা হয়নি। এই ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার কি পারবে নিজের শেষ বিশ্বকাপ্টা ট্রফি খরা কাটাতে?
ফুটবল বিশ্বের আরেক মহাতারকা নেইমার জুনিয়রের ২০২৬ বিশ্বকাপের ভাগ্য দুলছিল পেন্ডুলামের মত। ব্রাজিলের দায়িত্ব ইতালিয়ান কোচ কার্লো আঞ্চেলত্তি নেওয়ার পর গুঞ্জন শুনা যাচ্ছিল যে, নেইমার পুরোপুরি ফিট না থাকলে,তাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হবেনা। সান্তোসে নেইমারের পার্ফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত দলে রাখতে বাধ্য হন কার্লো। তবে ধারনা করা যাচ্ছে কোচ নেইমারকে পুরো সময় মাঠে খেলাবেননা। সবচেয়ে বেশি ৫ বার বিশ্বকাপ জেতা দেশটা ব্রাজিল হলেও,নেইমাররে নেই বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে ট্রাইবেকারে ক্রোয়েশিয়ার সাথে হেরে বাদ হলে নেইমার গভীরভাবে ভেঙ্গে পড়ে। ইনজুরি আর বিতর্ক বারবার থামিয়েছে তাকে। তবুও ব্রাজিলের কোটি সমর্থকের চোখে এখনও তিনিই শেষ ভরসা। তাই এবারের বিশ্বকাপ হয়তো নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ নেইমারকে নিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে যাবে ব্রাজিল
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় নামগুলোর একটি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিজের আধিপত্য ধরে রাখা এই পর্তুগিজ তারকার জন্য এবারের বিশ্বকাপ হতে পারে শেষ অধ্যায়। বয়স বাড়লেও গোল করার ক্ষুধা এখনও কমেনি তার। তবে বাস্তবতা হলো, আগের মতো আর পুরো ম্যাচজুড়ে দাপট দেখানোর সামর্থ্য নেই।
রোনালদোর ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত অর্জনের অভাব নেই। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফিটাই এখনও অধরা। তাই এবার হয়তো শেষবারের মতো সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন তিনি। কোটি ভক্তের চোখ থাকবে তার দিকেই—শেষ বিশ্বকাপে কি পারবেন ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন বিদায় লিখতে?
ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাস বদলে দেওয়া মানুষটির নাম লুকা মদ্রিচ। বয়স ৪০ ছুঁইছুঁই হলেও মাঠে তার উপস্থিতি এখনও অসাধারণ। তবে সময়ের বাস্তবতা মেনে নিলে, এটিই সম্ভবত মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ।
২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তোলা এই মিডফিল্ড জাদুকর এখনও দেশের সবচেয়ে বড় ভরসাগুলোর একটি। তার শান্ত মাথা, পাসিং আর নেতৃত্ব বহুবার কঠিন ম্যাচে দলকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু এবার বিশ্বকাপের পর হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন তিনি।
তাই এবারের বিশ্বকাপ মদ্রিচের জন্য শুধুই আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং ক্যারিয়ারের শেষ বড় মঞ্চ হতে পারে।
বেলজিয়ামের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম কেভিন ডি ব্রুইনা। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো ট্রফি এখনও জেতা হয়নি তার।
চোট সমস্যা গত কয়েক বছরে বেশ ভুগিয়েছে ডি ব্রুইনাকে। বয়সও ধীরে ধীরে ক্যারিয়ারের শেষভাগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাকে। তাই অনেকের মতে, এবারের বিশ্বকাপই হতে পারে তার শেষ সুযোগ।
বেলজিয়ামের এই প্রজন্মের স্বপ্ন এখন অনেকটাই ডি ব্রুইনার কাঁধে। শেষ বিশ্বকাপে তিনি দলকে কতদূর নিতে পারেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
বিশ্বকাপ সবসময় নতুন নায়কের জন্ম দেয়। আবার একই সঙ্গে কিছু কিংবদন্তির বিদায়ের সাক্ষীও হয়। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো ফুটবল ভক্তদের জন্য আবেগের এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে।