
বুদাপেস্টে একটি তুমুল লড়াই দানা বাঁধছে, শনিবার(৩০ই মে,২০২৬)পুস্কাস এরেনায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মাঠে নামবে পিএসজি বনাম আর্সেনাল ফাইনালে। পিএসজির সামনে সুযোগ টানা দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করবার। আর অপরদিকে ২০০৬ সাল অরথাৎ প্রায় ২০ বছর পর ফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল।
গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জিতেছিল পিএসজি। এবার ভাগ্যের পরিহাসে মিউনিখের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সেই আর্সেনাল, যাদের হারিয়েই তারা গতবার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল।
সেমিফাইনালে লুইস এনরিকের আক্রমণাত্মক পিএসজির কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে হেরেছিল আর্সেনাল। তবে এক বছরের ব্যবধানে দলটি অনেক বদলে গেছে। আগের চেয়ে আরও পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে গানাররা। সবচেয়ে বড় কথা, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘরোয়া লিগের শিরোপা জেতার সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।
২০২৫-২৬ মৌসুমে আর্সেনালের মূল লক্ষ্যই ছিল প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি পুনরুদ্ধার করা। টানা তিন মৌসুম রানার্স-আপ হওয়ার হতাশা কাটিয়ে এবার শেষ পর্যন্ত দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে আর্তেতার দল। শিরোপা দৌড়ে ম্যানচেস্টার সিটির চাপ সামলে ২২ বছর পর আবারও ইংল্যান্ডের সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
অন্যদিকে ফ্রান্সে পিএসজির আধিপত্য ছিল আগের মতোই অটুট। লেন্স কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত খুব বেশি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি। লুইস এনরিকের দল স্বাচ্ছন্দ্যেই লিগ ওয়ানের শিরোপা নিশ্চিত করে, যা গত ১৪ মৌসুমে তাদের ১২তম লিগ ট্রফি।
মে ৮,২০২৫ এ পিএসজি বনাম আর্সেনাল শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল। সেখানে পিএসজি ২-১ গোলের জয় পেয়েছিল। তাছাড়াও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একে-অপরের সামনা-সামনি হয়েছে ৫ বার,তার মধ্যে পিএসজি ২টি,আর্সেনাল ১টি জয় পায় আর বাকি দুই ম্যাচ ড্রতে শেষ করে।
সেমিফাইনালে পিএসজি বাদ করেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়ী দল বায়ার্নকে। আর অপরদিকে আর্সেনাল বিদায় জানিয়েছে আতলেটিকো মাদ্রিদকে। এই প্রতিযোগিতায় গানার্সরাই একমাত্র দল যারা কিনা কোনো ম্যাচই হারেনি ২৫/২৬ মৌসুমে। আর মিকেল আর্তেতার ছেলারা ৩৬ দলের মধ্যে ১ নম্বরে থেকে প্রথম ৮টি রাউন্ড শেষ করেছে।
এটি মূলত পিএসজির ভয়ংকর আক্রমণভাগ ও আর্সেনালের দৃঢ় মানসিকতার লড়াই। মিকেল আর্তেতা ও লুইস এনরিকের কৌশলগত দ্বৈরথও ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
গত মৌসুমের সেমিফাইনালে আর্সেনাল মোটেও খারাপ খেলেনি, কিন্তু কয়েকটি দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের কারণে বিদায় নিতে হয়েছিল। এবারও পিএসজির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। ২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতোমধ্যে ৪৪ গোল করেছে ফরাসি জায়ান্টরা, যা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।
তবে আর্সেনালও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের রক্ষণভাগ ছিল দারুণ শক্তিশালী। প্রশ্ন একটাই—এত দীর্ঘ ও কঠিন মৌসুমের শেষে ক্লান্তি কতটা প্রভাব ফেলবে দুই দলের ওপর।
ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষেও সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ সফল পিএসজি। গত দুই মৌসুমে তারা লিভারপুল, অ্যাস্টন ভিলা, আর্সেনাল ও চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় করেছে।
সবকিছু বিবেচনায় ম্যাচটি হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সামান্য এগিয়ে রাখা হচ্ছ আর্সেনালকেই।

পিএসজির লাইনাপ । ছবিঃ ফটমব
সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন আক্রাফ হাকিমি। সেই ম্যাচের পর আর মাঠে নামেননি পিএসজির এই ডিফেন্ডার। তার অনুপস্থিতিতে ওয়ারেন জাইরে-এমেরি দায়িত্ব সামলেছেন বেশ ভালোভাবেই।
তবে ফাইনালের আগে সুখবর পেয়েছে পিএসজি। হাকিমি ইতোমধ্যে দলের অনুশীলনে ফিরেছেন এবং শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। একইভাবে ওসমান ডেম্বেলেও পুরোপুরি ফিট হয়ে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। সামান্য চোট কাটিয়ে ওঠা এই তারকা ফাইনালে শুরু থেকেই খেলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিএসজির একাদশে বড় কোনো চমক থাকার সম্ভাবনা নেই। মিডফিল্ডে ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেসের সঙ্গে ফাবিয়ান রুইজের খেলাটা প্রায় নিশ্চিত। চোট থেকে ফেরার পর স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং ফাইনালেও তার ওপর বড় দায়িত্ব থাকবে।
আরো পড়ুনঃ পাকিস্তানকে হোম-অ্যাওয়েতে হোয়াইট ওয়াশ করে বাংলাদেশের রেকর্ড
তবে বিকল্প গোলরক্ষক লুকাস শেভালিয়ের উরুর চোটের কারণে ম্যাচটি মিস করতে পারেন।
সম্ভাব্য পিএসজি একাদশ (৪-৩-৩):
সাফোনভ; হাকিমি, মারকিনিওস, পাচো, নুনো মেন্দেস; ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, ফাবিয়ান রুইজ; দেজিরে দুয়ে, ওসমান ডেম্বেলে, খভিচা কোয়ারাতসখেলিয়া।

আর্সেনালের লাইনাপ । ছবিঃ ফটমব
ফাইনালের আগে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতার সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গাগুলোর একটি রাইট-ব্যাক পজিশন। প্রায় দুই মাস ইনজুরিতে থাকার পর জুরিয়েন টিম্বার অনুশীলনে ফিরেছেন। পুরোপুরি ফিট থাকলে তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, বিশেষ করে খভিচা কোয়ারাতসখেলিয়ার মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে সামলানোর ক্ষেত্রে। তবে দীর্ঘদিন ম্যাচের বাইরে থাকায় তাকে শুরু থেকেই খেলানো কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে হাঁটুর চোটের কারণে বেন হোয়াইট এখনও অনুপস্থিত। ফলে প্রয়োজন হলে ক্রিস্টিয়ান মসকেরাকেই বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
বাকি দলে বড় কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। ননি মাদুয়েকের হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা গুরুতর নয় এবং তিনি ফাইনালের জন্য প্রস্তুত। জানুয়ারিতে পায়ের অস্ত্রোপচারের পর মিকেল মেরিনোও সম্প্রতি মাঠে ফিরেছেন।
মিডফিল্ডে ডেকলান রাইসের সঙ্গে মাইলস লুইস-স্কেলির খেলার সম্ভাবনা বেশি। আক্রমণভাগে ভিক্টর জিওকারেসের পরিবর্তে কাই হাভার্টজকে দেখা যেতে পারে। আর মার্টিন ওডেগার্ড ও এবেরেচি এজের মধ্যে একজন শুরুর একাদশে জায়গা পাবেন। বাঁ প্রান্তে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের খেলা প্রায় নিশ্চিত।
সম্ভাব্য আর্সেনাল একাদশ (৪-২-৩-১):
রায়া; টিম্বার, সালিবা, গ্যাব্রিয়েল, কালাফিওরি; রাইস, লুইস-স্কেলি; সাকা, ওডেগার্ড, ট্রোসার্ড; হাভার্টজ।
ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের এই মহারণ অনুষ্ঠিত হবে বুদাপেস্টের পুস্কাস অ্যারেনায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে বিশ্বের সেরা কিছু তারকার দিকে।
বাংলাদেশি কোন চ্যানেল এই ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবেনা। তাই অনলাইনে সার্চ করুন- arsenal vs psg,arsenal vs psg live,arsenal vs psg champions league final,psg vs arsenal final live,arsenal vs psg live,where to watch arsenal vs psg final match। অথবা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপ দিয়েও ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবেন।