
কলকাতার Eden Gardens–এ যেন ঝড় বয়ে গেল। জয়ের জন্য দরকার মাত্র ১ রান, আর ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি পূরণে ফিন অ্যালেনের প্রয়োজন ৪। মার্কো ইয়ানসেনের বল উঠল ব্যাটে, সোজা বাউন্ডারি। এক শটে ম্যাচও শেষ, সেঞ্চুরিও পূর্ণ—আর ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল নিউজিল্যান্ড।
বুধবারের প্রথম সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দেয় কিউইরা। আগে ব্যাট করে প্রোটিয়ারা তোলে ৮ উইকেটে ১৬৯। জবাবে মাত্র ১২.৫ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড—একেবারে একতরফা লড়াই।
এই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নাম—ফিন অ্যালেন। ১০টি চার ও ৮টি ছক্কায় মাত্র ৩৩ বলেই শতরান পূর্ণ করেন এই ওপেনার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই এখন দ্রুততম সেঞ্চুরি। আগের রেকর্ড ছিল Chris Gayle–এর, ৪৭ বলে।
নিউজিল্যান্ডের জন্য এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করা। ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজিত আসরেও তারা ফাইনালে উঠেছিল, কিন্তু শিরোপা হাতছাড়া হয় অস্ট্রেলিয়ার কাছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি বড় ধাক্কা। গ্রুপ ও সুপার এইট মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জিতে সেমিতে ওঠা এইডেন মার্করামের দল শেষ চারে এসে থেমে গেল।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। প্রথম ওভারেই সেইফার্ট কট বিহাইন্ড হতে হতে বেঁচে যান। পরের ওভারে আবার ক্যাচের সুযোগ তৈরি হলেও কুইন্টন ডি কক ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ভুল বোঝাবুঝিতে জীবন পান তিনি। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে করবিন বশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন অ্যালেন—এক ছক্কার পর টানা চারটি চার, এক ওভারেই ২২ রান। প্রথম ছয় ওভারে ৮৪ রান তুলে ম্যাচ কার্যত নিজেদের করে নেয় কিউইরা।
Read More: আফ্রিদি-বাবর-শাদাবের বিদায়!
সেইফার্ট ২৮ বলে ফিফটি ছুঁলেও অ্যালেন ছিলেন আরও ভয়ংকর। নবম ওভারে কেশব মহারাজকে ছক্কা-চারে ভাসিয়ে মাত্র ১৯ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন সেইফার্ট—যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের দ্রুততম ফিফটি।
তবে রাবাদার দারুণ ডেলিভারিতে ৩৩ বলে ৫৮ রান করে থামেন সেইফার্ট। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার। এরপর রাচিন রবীন্দ্রর সঙ্গে ২২ বলে ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ম্যাচ শেষ করে দেন অ্যালেন। রবীন্দ্র করেন ১১ বলে ১৩, বাকিটা একাই সামলান অ্যালেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। কোল ম্যাককনকি এক ওভারেই ফেরান কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেল্টনকে। এরপর মার্করাম ও ব্রেভিস মিলে ৩৫ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়লেও রান রেট বাড়াতে পারেননি।
ডেভিড মিলার ব্যর্থ হন, তবে ব্রেভিস ২৭ বলে ৩৪ রান করে কিছুটা লড়াই করেন। ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে প্রোটিয়ারা।
সেখান থেকে মার্কো ইয়ানসেন ও ট্রিস্টান স্টাবস ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। ৪৮ বলে ৭৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ইয়ানসেন ছিলেন বেশি আগ্রাসী—২৯ বলে ৫৫* রান, সঙ্গে ৫টি ছক্কা। কিন্তু তার ঝড়ো ইনিংসও দলকে রক্ষা করতে পারেনি।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ম্যাট হেনরি, রাচিন রবীন্দ্র ও কোল ম্যাককনকি নেন দুটি করে উইকেট।
সেমিফাইনালে এমন আধিপত্য—ফাইনালে এবার কিউইদের সামনে দাঁড়াতে পারবে কে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।