
মিরপুর টেস্টে নিজের ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন মুশফিকুর রহিম। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে অন্যদিন সকালে ক্রিজে নেমেই পূর্ণ করলেন কাঙ্ক্ষিত তিন অংকের ইনিংস। স্কোয়ার লেগের দিকে আলতো ঠেলে নেওয়া এক রানেই ছুঁয়ে ফেললেন ইতিহাস—বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়া হলো তাঁর। এমন অর্জনে তিনি জায়গা করে নিলেন গর্ডন গ্রিনিজ, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ইনজামাম–উল–হক ও গ্রায়েম স্মিথের মতো কিংবদন্তিদের কাতারে।
দিনের শুরুটা অবশ্য খুব উজ্জ্বল ছিল না। দিনের প্রথম ওভারটি তিনি সতর্কভাবে মেইডেন খেলেন। তবে দ্বিতীয় ওভারে লিটন দাসের নেওয়া একটি সিঙ্গেলে আবার স্ট্রাইকে ফিরে এসে জর্ডান নিলের শর্ট পিচ বলে স্কোয়ার লেগে ঠেলে ইতিহাস স্পর্শ করেন মুশফিক। সেঞ্চুরির পরও তাঁর উদযাপন ছিল চিরচেনা স্বভাবসুলভ—শান্ত, দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী।
বিশ্ব ক্রিকেটে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা ব্যাটারের সংখ্যা এখন ১১। মুশফিক হলেন সে তালিকার সর্বশেষ সদস্য। আগের রেকর্ডধারীদের মধ্যে রিকি পন্টিং তাঁর শততম টেস্টে করেছিলেন দুটি সেঞ্চুরি—যার ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১২। সম্প্রতি জো রুট ও ডেভিড ওয়ার্নার ডাবল সেঞ্চুরি করে যুক্ত হয়েছিলেন এই অভিজাত তালিকায়।
আরও পড়ুনঃ
২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি, ম্যাচ লিস্ট ও ভেন্যু
ইনিংস ব্যবধানে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
সিলেট টাইটান্সে: ওমরজাই,মেন্ডিস,মোহাম্মদ আমির এবং মঈন আলী
এই ইনিংস মুশফিকের আরেকটি ব্যক্তিগত মাইলফলকও এনে দেয়। টেস্টে তাঁর ১৩তম সেঞ্চুরি এটি, যা তাঁকে মুমিনুল হকের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান বানিয়েছে। তবে তিন অংক স্পর্শ করার পর ইনিংসটি আর বেশি দূর গড়াতে পারেননি। ম্যাথু হাম্প্রিসের বাউন্স ও টার্নে বল স্লিপে গেলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ২১৪ বলে ১০৬ রানের তাঁর পরিশ্রমী ইনিংসে ছিল পাঁচটি মার্জিত চার।
মুশফিক আউট হওয়ার পর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন লিটন দাস। তাঁর সঙ্গে উইকেটে যোগ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনে মিলে ১৭১ বল মোকাবিলা করে যোগ করেন ৭৭ রান, যা বাংলাদেশকে বড় স্কোরের ভিত্তি এনে দিয়েছে। এ সময় লিটন দাস চার মেরে পূর্ণ করেন তাঁর ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি।