
বিপিএলের গত কয়েকটি আসরে ধারাবাহিক ব্যর্থতার সাক্ষী ঢাকা ফ্রাঞ্চাইজি। এবার দলটির মালিকানায় পরিবর্তন আসে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের মাধ্যমে, যা ভক্তদের মাঝে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছিল। তবে বাস্তবতা বলছে, মালিকানা বদলালেও মাঠের পারফরম্যান্সে তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ২০২৫ বিপিএলে প্রথম তিন ম্যাচে লিটন দাস ও মুস্তাফিজুর রহমানের মতো তারকাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও জয়ের মুখ দেখেনি ঢাকা ক্যাপিটালস।

ঢাকাকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে খুলনা। ছবি- সংগৃহীত
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঢাকা পর্বের শেষ ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের মুখোমুখি হয় ঢাকা। এদিন মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন খুলনা টাইগার্স ২০ রানে জয় তুলে নেয়, যা তাদের টানা দ্বিতীয় জয়।
ঢাকা ক্যাপিটালস টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাট করতে নেমে খুলনা টাইগার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ব্যাট থেকে। উইকেটরক্ষক এই ব্যাটার ২২ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় এই ইনিংসটি খেলেন। ওপেনার নাঈম শেখ খেলেন ১৭ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস, যেখানে ছিল ৭টি চার। অন্য ওপেনার উইলিয়াম বোসিস্তো ২৮ বলে ২৬ রান করেন।
মাঝখানে জিয়াউর রহমানের ১৫ বলে ২২ রান এবং ইনিংসের শেষদিকে আবু হায়দার রনির ৮ বলে ২১ রানের বিধ্বংসী ক্যামিও খুলনাকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেয়। ঢাকার হয়ে চাতুরাঙ্গা ডি সিলভা ২টি উইকেট পান। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান, থিসারা পেরেরা, এবং আরও ছয়জন বোলার একটি করে উইকেট তুলে নেন।
আরও পড়ুনঃ শান্তর বিদায়: বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে কার নেতৃত্বে এগোবে
১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ঢাকা। খুলনার বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে দলীয় ৪১ রানের মধ্যেই ৬টি উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। তানজিদ তামিম ১৯ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের ঘর পেরোতে পারেননি।
এরপর থিসারা পেরেরা দলকে বিপদমুক্ত করতে একাই লড়াই চালিয়ে যান। তার ব্যাটে আসে এবারের বিপিএলের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ৬০ বলে ৯টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১০৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন লঙ্কান এই অলরাউন্ডার। তবে তার অসাধারণ ইনিংস সত্ত্বেও জয়ের জন্য যথেষ্ট রান তুলতে পারেনি ঢাকা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তারা থেমে যায় ১৫৩ রানে।
খুলনার বোলিং আক্রমণে ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ, যিনি ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ৬ রান দিয়ে শিকার করেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার বোলিং স্পেলে ঢাকার ব্যাটিং অর্ডার কার্যত ধসে পড়ে। এছাড়া আবু হায়দার রনি ২টি এবং জিয়াউর রহমান ১টি উইকেট দখল করেন।
ম্যাচ শেষে মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, “আমাদের দল হিসেবে খেলতে পারাই মূল শক্তি। প্রতিটি ম্যাচে আমরা জয়ের জন্য নিবেদিত থাকি।” অন্যদিকে, থিসারা পেরেরার ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে, তবে ঢাকার ব্যাটিং গভীরতার অভাব ও ব্যর্থতাগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই হারের ফলে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপিএল ২০২৫-এর যাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই ধারাবাহিক উন্নতি দেখাতে হবে তাদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা টাইগার্স: ১৭৩/৮ (২০ ওভার)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৫৩/৬ (২০ ওভার)
ফলাফল: খুলনা টাইগার্স ২০ রানে জয়ী