
ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা, ইউরোপিয়ান ফুটবলের সিস্টেমে বেড়ে ওঠা এক তরুণ ফুটবলার এখন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) অন্যতম শীর্ষ ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের হয়ে মাঠ মাতাতে প্রস্তুত। ইংলিশ ক্লাব সান্দারল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের মিডফিল্ডার কিউবা মিচেলকে দলে ভিড়িয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে এই প্রতিভাবান তরুণ মিডফিল্ডার আগামী মৌসুম থেকে কিংসদের হয়ে মাঠে নামবেন।
ইমরুল হাসান জানান, “কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলবে। সে আমাদের দলে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে এবং আশা করছি আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই ঢাকায় চলে আসবে।”

কিউবা মিচেল। ছবি- সংগৃহীত
কিউবার ফুটবল জীবনের শুরুটা হয় ইংল্যান্ডের বিখ্যাত বার্মিংহাম সিটি একাডেমিতে। ফুটবলের মৌলিকতা ও প্রাথমিক উন্নয়নের শিক্ষা এখান থেকেই অর্জন করেন তিনি। ২০০২ সালে কিউবা বার্মিংহাম একাডেমি ছেড়ে যোগ দেন সান্দারল্যান্ড একাডেমিতে, যেখানে ধাপে ধাপে উন্নতি করতে থাকেন।
সান্দারল্যান্ডে তিনি অনূর্ধ্ব-১৮ দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন এবং পরে উন্নীত হন অনূর্ধ্ব-২১ দলে। ২০২4 মৌসুম পর্যন্ত ক্লাবটির যুব দলে তিনি নিজের দক্ষতার ছাপ রেখে গেছেন। তবে চলতি মৌসুমে সান্দারল্যান্ড চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রমোশন পেয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জায়গা করে নেয়। এ কারণে ক্লাবটি সিনিয়র স্কোয়াডকে শক্তিশালী করতে গিয়ে একাডেমির কিছু খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেয়। সেই তালিকায় জায়গা হয় কিউবা মিচেলেরও।
দলছুট হওয়ার পর কিউবা নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন। ইউরোপ ছাড়াও এশিয়ার বিভিন্ন ক্লাবের সাথে যোগাযোগ করেন তিনি। অবশেষে বসুন্ধরা কিংসের সাথে তার আলোচনা ফলপ্রসূ হয়। কিংসদের পেশাদার ব্যবস্থাপনা, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ কিউবার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
আগামী ১২ আগস্ট বসুন্ধরা কিংস মুখোমুখি হবে সিরিয়ার ক্লাব আল-কারামাহ এসসির। এই ম্যাচটি হবে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের অংশ হিসেবে। সম্ভাবনা রয়েছে, এই ম্যাচেই বসুন্ধরার জার্সিতে অভিষেক হতে পারে কিউবা মিচেলের। আজ ছিল এই প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড় ও কোচ নিবন্ধনের শেষ দিন। বসুন্ধরা কিংস শেষ মুহূর্তে কিউবাকে দলে নিবন্ধন করেছে।
READ MORE: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ: কোন ১২ দল যায়গা করে নিল দেখে নিন
এবার বসুন্ধরা কিংসের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন ব্রাজিলের সাবেক যুব দল কোচ সার্জিও ফারিয়াস। ক্লাবটি চ্যালেঞ্জ কাপে অংশগ্রহণের জন্য তার নামও আজ নিবন্ধন করেছে। অর্থাৎ, কিউবার বসুন্ধরা অধ্যায় শুরু হবে একজন অভিজ্ঞ ও ইউরোপিয়ান ধাঁচে অভ্যস্ত কোচের অধীনে। এতে করে তার টেকনিক, ট্যাকটিকস এবং মাঠে পারফরম্যান্সে বাড়তি উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
কিউবা মিচেলের আগমন বাংলাদেশের ফুটবলে এক নতুন বার্তা বয়ে আনছে। ইউরোপিয়ান ফুটবল কাঠামোয় বেড়ে ওঠা এই তরুণ মিডফিল্ডার মাঠে তার ভিশন, পাসিং অ্যাকিউরেসি এবং গেম রিডিংয়ের মাধ্যমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন। একইসাথে অন্য বিদেশি ফুটবলারদের মতো তিনিও দলের বিদেশি কোটায় খেলবেন না, বরং বাংলাদেশি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।
এটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্যও গর্বের বিষয়। দেশের বাইরে থাকা প্রতিভাবান বাঙালি ফুটবলারদের দেশে ফিরিয়ে আনার একটি দৃষ্টান্ত হতে পারেন কিউবা। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও ফুটবলারদের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আনার জন্য ক্লাবগুলোর আগ্রহ বাড়তে পারে।
বসুন্ধরা কিংসের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্লাব এবং একজন প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারের এই নতুন যাত্রা নিঃসন্দেহে উপভোগ্য হতে যাচ্ছে। কিউবা মিচেল কতটা দ্রুত নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারেন এবং কিংসের জার্সিতে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।