
রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট প্লে-অফ পর্বের রোমাঞ্চ। লিগ পর্ব থেকে সরাসরি শেষ আটে জায়গা করে নেওয়া দলগুলোর সঙ্গে যোগ দেবে আরও আটটি দল। প্লে-অফে লড়বে ১৬ দল—সেখান থেকে সেরা আট নিশ্চিত করবে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা। মঙ্গলবার রাতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। প্রথম লেগ শেষে কোন দল এগিয়ে থাকবে, আর কারা ফিরতি লেগের আগে কঠিন সমীকরণে পড়বে—তার আভাস মিলবে আজই।
বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে প্রথম ম্যাচ। ইস্তাম্বুলে গালাতাসারাই আতিথ্য দেবে জুভেন্টাসকে। এরপর রাত ২টায় একসঙ্গে মাঠে গড়াবে আরও তিনটি ম্যাচ। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড তাদের মাঠে মুখোমুখি হবে আতালান্তার। মোনাকো খেলবে পিএসজির বিপক্ষে। আর লিসবনে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইয়ে বেনফিকার সামনে দাঁড়াবে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস।
ইস্তাম্বুলে শেষ সাক্ষাতে জয় পেয়েছিল গালাতাসারাই। ২০১৩ সালে ওয়েসলি স্নাইডারের শেষ মুহূর্তের গোলে হার মানতে হয়েছিল জুভেন্টাসকে। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। তবে এবার ইতালিয়ান জায়ান্টরা অন্তত হার এড়াতে মরিয়া। প্রথম লেগে ভালো ফল এনে ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে সুবিধা নিতে চাইবে তারা।
গত সপ্তাহে ইতালিয়ান ডার্বিতে ইন্তারের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে কিছুটা চাপে আছে জুভেন্টাস। লোকাতেল্লির দেরিতে করা সমতা গোলও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারের পর টানা চার ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে গালাতাসারাই। তাদের আক্রমণের বড় ভরসা ভিক্টর ওসিমেন—জুভেন্টাসের বিপক্ষে যার রেকর্ড বেশ উজ্জ্বল।
Read More:ব্রাজিল নয়, বিশ্বকাপে চার দলকে এগিয়ে রাখলেন ভিনি
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে হেরে সরাসরি শেষ আটে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করেছিল রিয়াল। এবার প্লে-অফে নতুন উদ্যমে ফিরছে তারা। লা লিগায় সাম্প্রতিক বড় জয় দলটিকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। কিলিয়ান এমবাপে ফিরছেন পূর্ণ শক্তিতে, যা রিয়ালের আক্রমণে বাড়তি ধার যোগ করবে।
হোসে মরিনহোর অধীনে বেনফিকার পারফরম্যান্স ওঠানামা করলেও বড় ম্যাচে তারা ভয়ংকর হতে পারে। মরিনহো আগেই সতর্ক করেছেন—রিয়ালকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, ‘আহত রাজা আরও বেশি বিপজ্জনক।’ তাই প্রথম লেগে ইতিবাচক ফল নিয়ে ফিরতি লেগের আগে সমীকরণ নিজেদের পক্ষে রাখতে চাইবে পর্তুগিজ জায়ান্টরা।
দুই দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান ছিল সামান্য। ফলে সিগনাল ইদুনা পার্কে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশা করা হচ্ছে। দুই দলই নিজেদের লিগে ভালো ছন্দে আছে, যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ম্যাচে হেরেছিল উভয়েই।
২০১৮ সালের পর আবার মুখোমুখি হচ্ছে তারা। অতীতে ইউরোপা লিগে সমতায় শেষ করলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন—এক দলই এগোবে পরের ধাপে। ডর্টমুন্ডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব ধারাবাহিক না হলেও এই প্রতিযোগিতায় তাদের ইতিহাস শক্তিশালী। শেষ কয়েক আসরে নিয়মিত শেষ ষোলোতে উঠেছে তারা।
পিএসজির জন্য পথটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন অনেকে। নভেম্বরে লিগে মোনাকোর কাছে হার দেখেছে তারা। সেবাস্তিয়ান পোকোনোলির অধীনে মোনাকো ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে এবং আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামবে এই ম্যাচে।
অন্যদিকে লুই এনরিকের দল এখনও পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ঘরোয়া লিগে হোঁচট, ইউরোপেও লিগ পর্বে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে চাপ আছে পিএসজির ওপর। তবে এনরিকে আত্মবিশ্বাসী, চ্যাম্পিয়নস লিগে তার দল ঘুরে দাঁড়াবে বলেই বিশ্বাস তার।
সব মিলিয়ে, আজকের চার ম্যাচেই জমবে লড়াই। প্রথম লেগে যে দল এগিয়ে থাকবে, ফিরতি লেগে তাদের কৌশল হবে আরও হিসাবি। আর পিছিয়ে পড়া দলগুলোর সামনে থাকবে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জ। ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার নকআউট উত্তেজনা শুরু হচ্ছে আজ রাতেই।