
অবশেষে আইপিএলে নিজেদের সাফল্যের ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। গত মৌসুমে দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল দলটি। এবার সেই সাফল্য ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। আর সেই জয়ের নায়কও পরিচিত একজন—বিরাট কোহলি।
আহমেদাবাদের গ্যালারিভর্তি দর্শকের সামনে ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বেঙ্গালুরু। আগে ব্যাট করে গুজরাট তুলেছিল ১৫৪ রান। জবাবে ১২ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রজত পাটিদারের দল।
ফাইনালের মঞ্চে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন কোহলি। ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে পাওয়ারপ্লেতেই গুজরাটের বোলারদের চাপে ফেলে দেন তিনি। মাত্র ৩.৩ ওভারে দলীয় অর্ধশতক পূর্ণ করে বেঙ্গালুরু। যদিও ১৬ বলে ৩২ রান করে আইয়ার ফেরার পর কিছুটা ধাক্কা খায় দলটি।
দেবদূত পাডিক্কাল, রজত পাটিদার ও ক্রুনাল পান্ডিয়া দ্রুত ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন কোহলি। ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করে আইপিএলে নিজের দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ডও গড়েন এই তারকা ব্যাটার।
আরো পড়ুনঃ পাকিস্তানকে হোম-অ্যাওয়েতে হোয়াইট ওয়াশ করে বাংলাদেশের রেকর্ড
শেষদিকে টিম ডেভিড ২৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি কোহলির হাতেই। একবার জীবন পেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচ শেষ করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। ৪২ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে ১৮তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বেঙ্গালুরুর জয় নিশ্চিত করেন কোহলি।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে গুজরাট। দলের দুই ওপেনার শুবমান গিল ও সাই সুদর্শন দ্রুত সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে যায় তারা। জস বাটলারও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
মধ্যক্রমে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন ওয়াশিংটন সুন্দর। স্পিনিং অলরাউন্ডার ৩৭ বলে অপরাজিত ৫০ রান করে দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। শেষদিকে আরশাদ খানের ছোট্ট ঝড়ো ইনিংসও গুজরাটকে কিছুটা সাহায্য করে।
তবে বেঙ্গালুরুর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বড় স্কোর গড়া সম্ভব হয়নি। রাশিক দার ৩ উইকেট নিয়ে গুজরাটের ব্যাটিং লাইনআপে সবচেয়ে বড় আঘাত হানেন। এছাড়া ভুবনেশ্বর কুমার ও জশ হ্যাজেলউড দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কারও পেয়েছেন কয়েকজন তারকা। কাগিসো রাবাদা ২৯ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে মৌসুম শেষ করেছেন। অন্যদিকে ২৮ উইকেট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার।
সব মিলিয়ে আরেকটি স্মরণীয় মৌসুম শেষ করলো বেঙ্গালুরু। আর সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও ছিলেন বিরাট কোহলি, যিনি বড় ম্যাচে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করলেন।