
নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রথমবারের মতো এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আর অভিষেক ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দল চীন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে পড়েও সাহসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। যদিও শেষ পর্যন্ত পিটার বাটলারের শিষ্যদের হার মানতে হয়েছে।
সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে চীনের কাছে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। দুই গোলই আসে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে। বিরতির পর দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর গোলের দেখা পায়নি কেউ।
বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। চীনের ধারাবাহিক আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন দলের পোস্টারগার্ল ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় দারুণ লড়াই করলেও শেষের ভুলে গোল হজম করতে হয় দলকে।
খেলার প্রথম পাঁচ মিনিটেই কয়েকবার বাংলাদেশের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে চীন। তবে কখনও শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, কখনও সময়মতো শট নিতে পারেনি তারা। এ সময় বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা ছিলেন দৃঢ়। ১২ মিনিটে গোললাইন বাঁচান গোলকিপার মিলি। বক্সের ভেতর কঠিন কোণ থেকে ওয়াং শুয়াংয়ের জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি।
১৪ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোলের সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। মারিয়ার উড়ন্ত পাস ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান ঋতুপর্ণা। প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট গোলকিপার চেন চেনের ছোঁয়ায় কর্নারে পরিণত হয়। কয়েক মিনিট পর আবারও গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও অধিনায়কের চমৎকার ব্লকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুনঃ ব্রাজিল নয়, বিশ্বকাপে চার দলকে এগিয়ে রাখলেন ভিনি
২৪ মিনিটে ওয়াং শুয়াং হেডে বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর কিছু সময় সমানতালে লড়াই করে বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণা ও শামসুন্নাহার জুনিয়রদের আক্রমণে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে চাপ তৈরি হয়।
তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে খেই হারায় দলটি। ৪৪ মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে টপ কর্নার দিয়ে জাল কাঁপান ওয়াং শুয়াং। যোগ করা সময়ে রিবাউন্ড থেকে ঝাং রুইয়ের শট আফঈদা খন্দকারের পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
বিরতির পর পরিবর্তন আনেন কোচ বাটলার। তহুরা খাতুন, মোসাম্মৎ হালিমা খাতুন ও স্বপ্না রানী মাঠে নামেন। দ্বিতীয়ার্ধে নতুন উদ্যমে খেলতে শুরু করে বাংলাদেশ। ৫৯ মিনিটে আফঈদার ফ্রি কিক থেকে শামসুন্নাহারের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৬৮ মিনিটে আবারও মিলির দুর্দান্ত সেভ দর্শকদের মুগ্ধ করে।
শেষ দিকে মধ্যমাঠে দাপট দেখালেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। ৮৬ মিনিটে জাতীয় দলে অভিষেক হয় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ব্যবধান কমাতে পারেনি লাল-সবুজের মেয়েরা।
অন্য ম্যাচে ‘বি’ গ্রুপে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ৬ মার্চ, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে।