
চ্যাম্পিয়নস লিগের ৬ষ্ঠ বারের চ্যাম্পিয়নদের এবার ৪১ ম্যাচের অপরাজেয়ের রেকর্ড ভাঙ্গলো এস্টন ভিলা। এস্টন ভিলা তাদের লো-ব্লক ডিফেন্স দিয়েই বাজিমাত করছে। বায়ার্নের ১৭ শটের বিপরীতে আসেনি ১টি গোলও।

জন ডুরানের গোলে হতাশ নয়ার | ছবি: উয়েফা
গতকাল দিবাগত রাত (বৃহস্পতিবার) ১টায় ভিলা পার্কে (ইংল্যান্ড) মুখোমুখি হয় বায়ার্ন মিউনিখ ও ঘরের দল এস্টন ভিলা। উনাই এমেরির আগের দল পিএসজির সাথেই শেষ হেরেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। এমেরির সাথে বায়ার্নের রেকর্ড খুব ১টা ভালনা। বায়ার্নের ১ জয়ের বিপরীতে এমেরি এই ম্যাচসহ, হোসে মোরহিনহোর পর ৩টি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে বায়ার্নকে হারানোরও রেকর্ড গড়েছে।
ম্যাচে একক আদিপত্য শুরু থেকেই ছিল বায়ার্নের। তবে ফিনিশিংয়ের সেই ধারটা দেখা যায়নি। বায়ার্নের শুরুর একাদশটাই চমক ছিল। গানাব্রির মতো বাজে ফিনিশার ও স্বার্থপর ট্যাগ খ্যাত খেলোয়াড় গতকালও তার ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছে। ম্যাচের প্রথম ভাগেই বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছে বায়ার্ন,গানাব্রির কল্যানে।
এরপর সেটপিস থেকে গোল আদায় করে নেয় এস্টন ভিলা। তবে ভি.এ.আর দেখার পর গোল বাতিল হয়ে যায়। প্রথমভাগ গোলশূন্যই চলে যায়। এরপর দ্বিতীয় ভাগেও বাস পার্ক করে রাখে এস্টন ভিলা। শেষমেশ বায়ার্নের গোলকিপার দা গ্রেট সুইপার কিপার খ্যাত ম্যানুয়েল নয়ার, তার বক্স থেকে দূরে চলে আসলে। সেখান থেকে উপামেকানোকে ফাঁকি দিয়ে,কলিম্বিয়ান ২০ বছরের খেলোয়ার দুরানের চমৎকার এক ফিনিশে,ম্যাচকেও ১০ মিনিট আগে প্রায় শেষ করে দেয়।
তবে বায়ার্ন ম্যাচের ৮০ মিনিটের তুলনায় যতটানা ভয়ংকর ছিল। তার থেকে ৩× আক্রমণ করে। তবে গানাব্রির দুর্বল ফিনিশ এবং এমি মার্টিনিজের ক্লাব ক্যারিয়ের সেরা কয়েকটা সেইভ দিয়ে ম্যাচটিকে ১-০ তে নিজেদের করে নেয়।
এমি মার্টিনেজের স্বপ্ন ছিল এস্টন ভিলার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা। সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে, এখন এস্টন ভিলাকে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে উড়ছেন। এরকম পারফরম্যান্স এর পর এমি মার্টিনেজ বেশ খুশি। ম্যাচ শেষে প্রেস কনফারেন্সে এসে এমি তার মনের কথাগুলো কে প্রকাশ করেছেন-
আরও পড়ুন: কেভিন ডি ব্রুইনে: সৌদি লিগে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত!
“প্রিমিয়ার লিগে আমি রেগুলার গোল কন্সিড করতেছি, যা আমাকে অনেক প্রভাবিত করেছে। আমি ক্লিনশিট রাখতে চাই এবং সেটার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। গতকাল আমরা ৪০/৫০ মিনিট বলে রিয়েক্টিং কিংবা ফোকাস রাখায় কাজ করেছি। যা আজ আমায় ভালো করতে সাহায্য করেছে।”
“আমি এস্টন ভিলাকে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার লক্ষ স্থির করেছিলাম। আজ আমি এস্টন ভিলার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলছি। আমি প্রতিনিয়ত নিজের উন্নতি করার চেষ্টা করছি। এবং এস্টন ভিলার হয়ে সবকিছু জিততে চাই!”
বায়ার্নের হারের দায়টা অবশ্যই বহন করতে হবে কোচ ভিনসেণ্ট কোম্পানিকে। তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চেও পরীক্ষা নিরীক্ষা করছিলেন। যেটা বায়ার্নের ডিএনএর সাথে যায়না। তবে বড় দল মাঝে মাঝে ভুল করে বসে। এস্টন ভিলার জন্য শুভকামনা।