
সুপার এইটের যাত্রা শুরু বাংলাদেশের শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার সাথে হেরে। বাংলাদেশের সল্প পুঁজি ১৪০ রান অস্ট্রেলিয়া ১১.২ বলেই ১০০ রান বোর্ডে যোগ করে ফেলে। বৃষ্টি বাগরা দিলে,বল আর মাঠেই গড়ায় না। যার ফলে (ডিএলএস ম্যাথডে) অস্ট্রেলিয়াকে ২৮ রানে জয়ী ঘোষণা দেওয়া হয়।

তামিমকে বোল্ড আউট করেছেন মিচেল স্টার্ক | ছবি: এএফপি
স্যার ভিভিয়ান রিচার্ড স্টোডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায়। আন্টিয়ার আকাশ শুরু থেকেই ছিল মেঘাছন্ন। বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙ্গে ০ রানে। মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম।
মাঝখানে লিটন ও শান্ত জুটি গড়ে তুললেও। তাদের রান তোলার হার ছিল ধীরগতিসম্পন্ন। যার প্রভাব স্কোরবোর্ডে পড়েছে। লিটন কুমার দাস ১৬(২৫) রান করে ফিরেন সাজঘরে। তার ব্যাটিং ছিলনা টি-টোয়েন্টি সুলভ। তবে আজকে রানের দেখা পেয়েছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৪১(৩৬)।
এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে ৪ নম্বরে ব্যাট করতে আসে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। সেখানে ২ রান করে চমকপ্রদ ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয় রিশাদ। সাকিব আল হাসান এইদিনও ছিলেন ব্যর্থ ৮(১০)। তাওহিদ রূদয় আজও খেলেছেন এক সাহসী ইনিংস ৪০(২৮)। শেষে তাসকিনের ৭ বলে ১৩ রান,বাংলাদেশকে ১৪০ রানের পুঁজি এনে দেয়।

পেট কামিন্সের প্রথম হ্যাট্রিক | ছবি: এএফপি
প্যাট কামিন্স করে বসেন হ্যাট্রিক। যা তার এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথম। মাত্র ২৮ রান খরচায় পকেটে পুরে নেন ৩টি উইকেট। এরপরে দলীয় সর্বোচ্চ ২য় হিসেবে ইনিংসে ২ উইকেট তুলে নেন এডাম জাম্পা।
অজিরা ব্যাটিংয়ে এসেই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ব্যাটিং করা শুরু করে। তারা বরাবরই এরকমই আগ্রাসী ব্যাটিং করে। তবে আজ বেশি তারা ছিল কারন,বারবার বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে তান্ড চালাচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটাররা। ডেভিড ওয়ার্নার তার ব্যাক্তিগত ৫ রানের সময় একটি ক্যাচ তুলেন,কিন্তু বাংলাদেশের সেরা ফিল্ডারদের একজন তাওহীদ রূদয় সেই ক্যাচটি লুফে নিতে পারেনি। সেই ডেভিড ওয়ার্নার করেন ৩৫ বলে ৫৩* রান।

বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ | ছবি: এএফপি
পাওয়ার প্লেতে অজিরা বিনাউইকেটে ৫৯ রান বোর্ডে তুলে। ট্রাভিস হেড করে ২১ বলে ৩১ রান। অস্ট্রেলিয়া ১১.২ ওভারেই বোর্ডে যোগ করে ফেলে ১০০ রান। এরপর আবারও বৃষ্টির কারনে খেলা থামে। বৃষ্টির কারনে খেলা আর মাঠে না গড়ালে,অস্ট্রেলিয়া ডিএলএস ম্যাথডে ২৮ রানের জয় পায়। বাংলাদেশ যেই দুইটি উইকেট নিয়েছে। সেই ২টাই তুলে নিয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
বাংলাদেশ এই ম্যাচ ব্যাটিং ইনিংসেই হেরে গিয়েছে। কারন এতদিন বাংলাদেশ খেলেছিল আমেরিকার মাঠে। যেখানে উইকেট ছিল স্লো। যা বোলিংয়ের সর্গ ছিল। তবে সুপার এইটের সব খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজে। যেখানে ব্যাটাররাই রাজ করে। আর গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ বোলাররাই জিতিয়েছিল। আজকেও ব্যাটিং অর্ডার আরও একবার ব্যর্থ। ট্রু ব্যাটিং পিচে অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রতিপক্ষের জন্য ১৪০ রান কোনো ব্যাপারই না। তাই পরবর্তী ম্যাচ ভারত ও আফগানিস্তানের সাথে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ : ১৪০/৮ (২০)
শান্ত ৪১(৩৬),রূদয় ৪০(২৮)
কামিন্স ৪-০-২৯-৩
অস্ট্রেলিয়া : ১০০/২ (১১.২)
ওয়ার্নার ৫৩*(৩৫),হেড ৩১(২১)
রিশাদ ৩-০-২৩-২
ফলাফল: অস্ট্রেলিয়া ২৮ রানে বৃষ্টি আইনে জয়ী।