
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা — এএফসি নারী এশিয়ান কাপ ২০২৬। সম্প্রতি এই আসরের গ্রুপ ড্র প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ১২টি দলকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের নাম প্রথমবারের মতো মূলপর্বে উঠে আসায় এটি দেশের নারী ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।

নারী এশিয়া কাপ ২০২৬ | ছবিঃ সংগৃহীত
এবারের এশিয়ান কাপ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায়। ১২টি দলকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, প্রতি গ্রুপে রয়েছে ৪টি করে দল। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং দুই সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে।
এই প্রথমবারের মতো ওশেনিয়া অঞ্চলের একটি দেশ পুরো টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। অস্ট্রেলিয়া ২০০৬ সালে এই আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং এবার ঘরের মাঠে তারা আবার শিরোপার লক্ষ্যে খেলবে।
অস্ট্রেলিয়া
দক্ষিণ কোরিয়া
ইরান
ফিলিপাইন
এই গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, যারা সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে চমৎকার পারফরম্যান্স করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল। ইরান ও ফিলিপাইন তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও তাদের উন্নতি চোখে পড়ার মতো।
উত্তর কোরিয়া (DPR Korea)
চীন PR
বাংলাদেশ
উজবেকিস্তান
বাংলাদেশের জন্য এই গ্রুপটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। চীন এ পর্যন্ত সর্বাধিক ৯ বার এশিয়ান কাপ জিতেছে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া তাদের শারীরিক শক্তি ও রক্ষণাত্মক কৌশলের জন্য বিখ্যাত। উজবেকিস্তান তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের নিকটতম মানের দল, যেখানে জয় পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এই গ্রুপে প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ।
READ MORE: ইংল্যান্ডপ্রবাসী কিউবা মিচেল বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিলেন | AFC Challenge Cup এ সম্ভাব্য অভিষেক
জাপান
ভিয়েতনাম
ভারত
চাইনিজ তাইপে
এই গ্রুপে রয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জাপান, যারা এশিয়ায় নারী ফুটবলে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ভিয়েতনাম ও ভারত গত এক দশকে নারী ফুটবলে বেশ উন্নতি করেছে। চাইনিজ তাইপে গতিময় ফুটবলের জন্য পরিচিত, ফলে এই গ্রুপেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বেশ কঠিন।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক সুযোগ। বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফর্ম করে মূলপর্বে জায়গা করে নিয়েছে সাবিনা-কৃষ্ণারা। এই আসরে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নারী ফুটবলের মান এবং আত্মবিশ্বাস দুইই বাড়াবে।
যদিও গ্রুপটি কঠিন, তবে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি ম্যাচে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অন্তত একটি জয় নিশ্চিত করা। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই ম্যাচ জিতলে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
টুর্নামেন্টটি ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হবে, তবে নির্দিষ্ট তারিখ ও ম্যাচ সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলো প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ও ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন করবে।
২০২৬ সালের এএফসি নারী এশিয়ান কাপ শুধুমাত্র একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের তুলে ধরার এক বড় সুযোগ। দেশবাসীর সমর্থন ও প্রেরণায় বাংলাদেশের নারীরা হয়তো একদিন এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে প্রধান শক্তি হয়ে উঠবে।