বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে সাতটায় ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তানের সামনে ছিল দীর্ঘদিনের হারের বৃত্ত ভাঙার চ্যালেঞ্জ। ২০২২ সালের পর আর ভারতকে হারাতে পারেনি তারা। মাঝের পাঁচটি টি-টোয়েন্টিতেই ছিল পরাজয়। ষষ্ঠ ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা বদলাতে পারল না বাবর আজমদের দল। ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতায় তারা থামে মাত্র ১১৪ রানে।
টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান। শুরুতেই অভিষেক শর্মার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। তবে সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ইশান কিশান। তার ৭৭ রানের ঝলমলে ইনিংস ভারতীয় ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেয়।
কিশানের ব্যাটে এদিন গড়েছে একাধিক রেকর্ড। ভারত–পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান এখন তার দখলে—প্রথম ছয় ওভারে করেন ৪২ রান। পাশাপাশি মাত্র ২৭ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক, যা দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি। এর আগে ২০১২ সালে মোহাম্মদ হাফিজ ২৩ বলে এবং গত বছর দুবাইয়ে অভিষেক ২৪ বলে ফিফটি করেছিলেন।
আরেকটি অর্জনেও নিজের নাম তুলেছেন কিশান। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় তিনি ছাড়িয়ে গেছেন গৌতম গম্ভীরের ৭৫ রানের ইনিংসকে। তবে শীর্ষে এখনো বিরাট কোহলি—২০২২ সালে মেলবোর্নে তার অপরাজিত ৮২ রান এখনও সবার ওপরে।
দলীয় ৮৮ রানে কিশান ফিরলেও ইনিংসের গতি ধরে রাখেন তিলক ও সূর্যকুমার যাদব। তবে ১২৬ রানে এসে দ্রুত দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। সাইম আইয়ুব এক ওভারে তিলক ও হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ফেরান। তিলক করেন ২৫ রান, আর পাণ্ডিয়া ফিরেছেন শূন্য হাতে।
আরও পড়ুনঃ West indies vs Nepal: সবার আগে সুপার এইটে ক্যারিবীয়রা
শেষ দিকে সূর্যকুমার, শিবম দুবে ও রিঙ্কু সিংয়ের ছোট ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে ভারত পৌঁছে যায় লড়াকু সংগ্রহে। সূর্য ৩২, দুবে ২৭ এবং রিঙ্কু ১১ রান করেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৫।
পাকিস্তানের হয়ে সাইম আইয়ুব নেন তিনটি উইকেট। একটি করে উইকেট শিকার করেন সালমান আগা, শাহিন আফ্রিদি ও উসমান তারেক।
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। তৃতীয় বলেই ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান। পাওয়ারপ্লের আগেই চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে তারা। কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন উসমান খান ও শাদাব খান। দুজনের জুটিতে আসে ৩৯ রান, তবে সেটিই ছিল ক্ষণিকের স্বস্তি।
মাঝের ওভারগুলোতে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ৭৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পড়ার পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হার মেনে নেয় পাকিস্তান।
ফলাফল—আরেকটি ভারতীয় জয়, আরেকটি হতাশার রাত পাকিস্তানের জন্য। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ম্যাচে এবারও শেষ হাসি ভারতের।










