
শেষ মুহূর্তের চাপ, এক ওভারের লড়াই, তারপর সুপার ওভারের স্নায়ুযুদ্ধ—সব মিলিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রাখলেন তরুণ পেসার রিপন মন্ডল। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে জয় তুলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ৭ রান। তখন বল হাতে তুলে নেন রিপন। নিখুঁত লেন্থ আর ঠান্ডা মাথার বোলিংয়ে তিনি দেন মাত্র ৬ রান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই দলই সমান ১৫৯ রান করলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
সুপার ওভারেও ভরসা রাখা হয় রিপনের ওপর। চাপের মঞ্চেও তিনি দারুণ নিয়ন্ত্রণে রেখে দেন রান, খরচ করেন মাত্র ৬। রাজশাহীর হয়ে সেই রান তুলতে কোনো সমস্যাই হয়নি বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। তাতেই নাটকীয় ম্যাচের ইতি টানে রাজশাহী।
এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। ইনিংসের প্রথম দিকেই তানজিদ হাসান তামিমকে ফেরান আলিস আল ইসলাম, মিড-অন থেকে লিটন কুমার দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে শেষ হয় তার ইনিংস। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সাহিবজাদা ফারহান ও নাজমুল হোসেন শান্ত ধীরে কিন্তু দৃঢ়ভাবে ম্যাচে ফেরান দলকে। ৬৩ বলের জুটিতে আসে ৯৩ রান।
৩০ বলে ৪১ রান করে শান্ত রান আউট হলে সেই জুটি ভাঙে। এরপর ইনিংসের গতি হঠাৎ করেই থমকে যায়। শেষের ৪৪ বলে রাজশাহী যোগ করতে পারে মাত্র ৫৪ রান, হারায় ৭ উইকেট। এক প্রান্ত ধরে রেখে আক্রমণ চালান সাহিবজাদা ফারহান। ৪৬ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। তবে শেষ দিকে অন্য ব্যাটাররা কেউই বড় অবদান রাখতে পারেননি।
রংপুরের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ফাহিম আশরাফ, ৪৩ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। আলিস আল ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচ করে তুলে নেন ২ উইকেট।
১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় রংপুরের শুরুটা আশাব্যঞ্জক হলেও লিটন কুমার দাস দ্রুতই ফিরে যান। তবে চাপ সামলে ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখেন তাওহিদ হৃদয় ও দাভিদ মালান। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ৭২ বলে ১০০ রানের জুটি গড়ে তারা রংপুরকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান। হৃদয় ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৩৯ বলে ৫৩ রান করে আউট হন।
আরও পড়ুনঃ ৩০ লাখ টাকায় ২০২৬ বিপিএলে নতুন ট্রফি,কেন আলাদা!
হৃদয়ের বিদায়ের পর মালান নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করলেও শেষ দিকে ছন্দ নষ্ট হয়। কাইল মায়ার্স দ্রুত ফিরে যান, আর মেহেরব হাসানের আঁটসাঁট স্পেলে রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। ১৯তম ওভারে দুটি বাউন্ডারিতে সমীকরণ সহজ হলেও শেষ ওভারে আবার নাটক জমে ওঠে।
শেষ ওভারে প্রথম বলেই খুশদিল শাহ আউট হন। এরপর নুরুল হাসান সোহান কিছুটা আশা জাগালেও শেষ দুই বলে ব্যর্থ হন তিনি। শেষ বলটিতে মাহমুদউল্লাহ রান নিতে গিয়ে রান আউট হলে নিশ্চিত হয় সুপার ওভার।
সুপার ওভারে আবারও দৃশ্যপটে রিপন মন্ডল। অভিজ্ঞতা আর নিয়ন্ত্রণে রংপুরকে আটকে দিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের নায়ক বনে যান তরুণ এই পেসার।