ফিফা অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২৫: প্রথমবার পর্তু‌গাল জয়ী
Ad Banner

ফিফা অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২৫: প্রথমবার পর্তু‌গাল জয়ী

  • প্রকাশিত হয়েছে: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০৭ বার এই মুহূর্তে
ফিফা অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা জিতল পর্তু‌গাল
গেটি ইমেজ
                       

ফিফা অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপ ফাইনাল: পর্তু‌গাল ১-০ অস্ট্রিয়া

দোহা, কাতারের সেই সন্ধ্যাটা ছিল অন্যরকম। আলোর ঝলকানি, জনতার গর্জন আর মরুর হাওয়ার হালকা স্পর্শ—সব মিলিয়ে যেন এক জাদুকরী পরিবেশ। ৪৮ দেশের প্রতিভাবান কিশোর ফুটবলাররা যে দিনটির জন্য লড়াই করেছে, সেই ২০তম ফিফা অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনায় থমথমে পুরো স্টেডিয়াম।

মাঠের দু’প্রান্তে দাঁড়িয়ে পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়ার তরুণরা যেন নিজেদের সব স্বপ্ন এক পাল্লায় তুলে দিয়েছে। যারা দেখছিল, তাদের চোখেও মনে হচ্ছিল—আজ কোনো দল শুধু একটা ম্যাচ খেলতে নামেনি; তারা ভবিষ্যতের ইতিহাস লিখতে এসেছে।

ক্যাবরালের জন্মদিনের মতো সেই মুহূর্ত

৩২তম মিনিটটা মাঠের আলো হঠাৎ উজ্জ্বল করে দিল। পর্তুগালের উইং থেকে ছোড়া বলটা যখন গোলমুখে ঢুকছিল, তখন বেনফিকার উঠতি ফরোয়ার্ড আনিসিও ক্যাবরাল ঠিক এক সেকেন্ডের জন্য সমস্ত কিছুকে থামিয়ে দিলেন—তার গতি, তার ভারসাম্য, আর তার ঠাণ্ডা মাথা…সবই যেন একসঙ্গে কাজ করল।

তিনি নিখুঁতভাবে অনসাইড থেকে বল গ্রহণ করলেন, সামনে কোনো ডিফেন্ডার নেই, গোলরক্ষক ভুল পজিশনে। মুহূর্তটা দেখে মনে হচ্ছিল সামনে শুধু সবুজ মাঠ আর তার স্বপ্ন। ফাঁকা জালে বল ঠেলে দিতেই স্টেডিয়াম ফেটে পড়ল করতালিতে।

এমন মুহূর্তগুলো সাধারণত অভিজ্ঞ তারকারা উল্লেখ করেন ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে। আর ক্যাবরালের জন্য সেটাই ছিল তার সপ্তম গোল—একজন অপ্রতিরোধ্য স্ট্রাইকারের নিঃশব্দ ঘোষণা।


আরও পড়ুনঃ

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: দেখুন পুরো সময়সূচি ও ভেন্যু


এক গোলের লিড, কিন্তু যুদ্ধ শেষ নয়

গোলের পর অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়রা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের অধিনায়ক, গোল্ডেন বল জয়ী ইয়োহানেস মোসার সবসময়ই দলের প্রাণভোমরা। তার মুভমেন্ট, তার পাসিং, আর তার শান্ত স্থির দৃষ্টি পুরো ম্যাচে পর্তুগাল ডিফেন্সকে ব্যস্ত রেখেছিল। ক্যাবরালের থেকে মাত্র এক গোল বেশি পেলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হতে পারতেন তিনি।

তবু দিনটা তার নয়—দিনটা অন্য এক নায়কের।

ইতালি বনাম ব্রাজিল — আলাদা এক ড্রামা

এর আগের ম্যাচেও উত্তেজনার কমতি ছিল না। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে ইতালি ও ব্রাজিল ৯০ মিনিট জুড়ে লড়ল যেন তাদের সামনে বিশ্বকাপটাই দাঁড়িয়ে। গোল হলো না কোনো দলের। কিন্তু নাটক থেমে থাকেনি।

টাইব্রেকারে ইতালির গোলরক্ষক আলেসান্দ্রো লংগোনি এমন দুইটা পেনাল্টি ঠেকালেন—মনে হলো সে যেন নিজের ভাগ্যের সঙ্গেই লড়ছে। একবার পড়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে বল ঠেকানো, আরেকবার নিখুঁত ডাইভ দিয়ে বল মুঠোয় ধরা। দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিনন্দন দিল। ৪–২ ব্যবধানে ইতালি জিতে নিল তৃতীয় স্থান।

ইতিহাসের পাতায় প্রথমবার পর্তুগাল

৯০ মিনিট শেষ হতেই পর্তুগালের খেলোয়াড়রা একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে। কোচ দৌড়ে মাঠে ঢুকে সবাইকে আলিঙ্গন করছেন। ছোট ছোট মুখে বড় বড় স্বপ্ন—ওরা জিতেছে নিজেদের দেশের জন্য, নিজেদের পরিবারের জন্য, নিজেদের অদেখা ভবিষ্যতের জন্য।

পর্তুগাল প্রথমবারের মতো জিতল অনূর্ধ্ব–১৭ বিশ্বকাপ।
এটা শুধু একটা ট্রফি নয়—একটি প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

টুর্নামেন্ট এখন প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হবে, আর আগামী চার বছর পরপরই কাতারই আয়োজক। মরুর দেশে আবার ফিরবে এই তরুণ তারকারা—কেউ আবার নাম লিখবে, কেউ উঠে যাবে বড় মঞ্চে, আর কেউ হয়তো একদিন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি হয়ে উঠবে।

কিন্তু সেই রাতে, দোহা স্টেডিয়ামের আলো নিভে যাওয়ার পরও একটা দৃশ্য ভেসে থাকল সবার চোখে—আনিসিও ক্যাবরালের মুখের হাসি। যে হাসিতে ছিল স্বপ্নের জয়, পরিশ্রমের ফল, আর এক টুকরো ভবিষ্যতের আলো।

, , , , , , , , ,

Share Your Thoughts

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরও পড়ুন এই ক্যাটেগরিতে