
রংপুর রাইডার্সের শীর্ষে থাকার হিসাব আর নোয়াখালী এক্সপ্রেসের টানা ব্যর্থতার চাপ—বিপিএলের এই দুই বিপরীত বাস্তবতা নিয়েই মাঠে নেমেছিল দল দুটি। শেষ পর্যন্ত গল্পটা বদলে দেয় নবাগত নোয়াখালীই। টানা ছয় হারের হতাশা ঝেড়ে সপ্তম ম্যাচে ৯ রানের জয় তুলে নিয়ে লজ্জার এক রেকর্ড থেকে বেঁচে যায় হায়দার আলীর দল।
প্রথমবার বিপিএলে অংশ নিয়ে শুরু থেকেই ভোগান্তিতে ছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একের পর এক ম্যাচ হারতে হারতে তারা পৌঁছে গিয়েছিল টানা সাত হারের অশনিসংকেতের সামনে। ২০১২ সালে প্রথম আসরে সিলেট রয়্যালস যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল, ঠিক সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার শঙ্কা ছিল নোয়াখালীর সামনে। তবে শেষ পর্যন্ত রংপুরকে হারিয়ে সেই কালো অধ্যায় এড়িয়ে গেল দলটি।
টসে হেরে আগে ব্যাট করে ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ রানেই গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। লক্ষ্য তাড়ায় রংপুর ২০ ওভারে ৯ উইকেটে তুলতে পারে ১৩৯ রান। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানের খুব একটা পরিবর্তন না হলেও মানসিকভাবে বড় স্বস্তি পায় নোয়াখালী। অন্যদিকে, দুই পয়েন্ট হারিয়ে শীর্ষে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হয় রংপুরের।
Read More: ৩০ লাখ টাকায় ২০২৬ বিপিএলে নতুন ট্রফি,কেন আলাদা!
রান তাড়ার শুরুটা রংপুরের জন্য মোটেই সুখকর ছিল না। মাত্র ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। হাসান মাহমুদের গতিময় ডেলিভারিতে লিটন দাস বোল্ড হন, এরপর স্পিনার নবীর বলে ডেভিড ম্যালানও সাজঘরে ফেরেন। তবে তৃতীয় উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ ধৈর্য আর আক্রমণের মিশেলে দলকে ফের ম্যাচে ফেরান। ৫১ বলে তাদের ৬৩ রানের জুটি ভাঙে ইফতিখার ৩১ বলে ৩৭ রান করে আউট হলে।
এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও বড় কিছু করতে পারেননি। ৮ বলে ৯ রান করে ফেরার পর হৃদয়ের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আবার কঠিন হয়ে পড়ে রংপুরের সমীকরণ। শেষ চার ওভারে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৪১ রান। সোহান দ্রুত আউট হয়ে গেলে দায়িত্ব পড়ে খুশদিল শাহের ওপর। শেষ দুই ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩ রান। ১৯তম ওভারে আসে ৮ রান, শেষ ওভারে দরকার হয় ১৫।
সেই শেষ ওভারেই নায়ক বনে যান হাসান মাহমুদ। পাঁচ রান দিয়ে তিন উইকেট তুলে নিয়ে নোয়াখালীর প্রথম জয় নিশ্চিত করেন তিনি। খুশদিল শাহ, মৃত্যুঞ্জয় ও আরেক ব্যাটারকে ফিরিয়ে রংপুরের আশা শেষ করে দেন এই পেসার।
এর আগে নোয়াখালীর ইনিংসের শুরুটা ছিল বেশ উজ্জ্বল। পাওয়ারপ্লেতেই উঠে আসে ৬৬ রান। সৌম্য সরকার ও হাবিবুর রহমান সোহানের ব্যাটে আগ্রাসী সূচনা পেলেও মাঝপথে ধস নামে। মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম বলেই ওপেনিং জুটি ভেঙে দেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নোয়াখালী।
৮৯ রানে পাঁচ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ইনিংস সামাল দেন জাকের আলী ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। জাকের ৩৮ বলে ৩৭ আর অঙ্কন ২১ বলে ২৮ রান করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। শেষ দিকে মোস্তাফিজের বোলিং তাণ্ডব ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর হ্যাটট্রিকে দ্রুত গুটিয়ে যায় নোয়াখালী ইনিংস।
রংপুরের হয়ে মোস্তাফিজ ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার—৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ইতিহাস গড়ে হ্যাটট্রিক নেন, বিপিএলের দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে। নাহিদ রানা গতির ঝড় তুলে কম রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি উইকেট নেন, আর খুশদিল শাহও স্পিনে কার্যকর ছিলেন।
সব মিলিয়ে এই ম্যাচ নোয়াখালীর জন্য শুধুই দুই পয়েন্ট নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফেরানোর এক বড় উপলক্ষ হয়ে রইল।