
বিপিএল ২০২৬ শুরু হওয়ার আগে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ঘিরে ছিল কৌতূহল আর আলোচনার ঢেউ। নতুন দল, নতুন পরিচয়—সব মিলিয়ে প্রত্যাশার পারদ ছিল চড়া। কিন্তু মাঠে গড়ানোর পর গল্পটা একেবারেই উল্টো দিকে মোড় নিয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরুতেই ছন্দহীন পারফরম্যান্সে একের পর এক ম্যাচ হাতছাড়া করেছে নোয়াখালী।
এখন পর্যন্ত খেলা ছয় ম্যাচে কোনো জয় নেই নবাগত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির। প্রতিটি ম্যাচেই হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে দলটিকে। ফলাফল হিসেবে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে নিচে ঠাঁই হয়েছে তাদের। বিপিএল ইতিহাসে পরিচিত একটি অপ্রত্যাশিত পরিসংখ্যান—টানা ছয় ম্যাচ পরাজয়ের তালিকায় যুক্ত হলো নোয়াখালী এক্সপ্রেসের নাম।
আরও পড়ুনঃ ৩০ লাখ টাকায় ২০২৬ বিপিএলে নতুন ট্রফি,কেন আলাদা!
তবে এমন শুরু এই লিগে একেবারে নজিরবিহীন নয়। সময়ের পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০১২ সালে আসরের প্রথম সংস্করণেই সিলেট রয়্যালস প্রথম সাত ম্যাচ হেরে গিয়ে অষ্টম ম্যাচে প্রথম জয় পেয়েছিল। এখনো সেটিই বিপিএলের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়ের খরা দিয়ে শুরু করা দলের রেকর্ড।
সাম্প্রতিক সময়েও এমন হতাশাজনক সূচনা দেখা গেছে। আগের আসরে ঢাকা ক্যাপিটালস প্রথম ছয় ম্যাচেই হেরে বসেছিল। এবার সেই দলে সঙ্গী হলো নোয়াখালী। সামনে আরও একটি হার এলে, লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে শুরুর তালিকায় তাদের অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়ে যাবে।
নোয়াখালীর যাত্রা শুরু হয়েছিল চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে পরাজয়ের মাধ্যমে। এরপর সিলেট টাইটান্সের কাছে দুই দফা হার, মাঝখানে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ব্যর্থতা—ছয় ম্যাচেই একই পরিণতি। সর্বশেষ রাজশাহীর বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচেও জয় অধরাই থেকে যায়।
বিপিএলে টানা ছয় ম্যাচ হার নতুন কিছু নয়। ১১ আসরের ইতিহাসে অন্তত আটটি দল এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণটি রয়েছে দুর্দান্ত ঢাকার, যারা ২০২৪ সালে টানা দশ ম্যাচ হেরে রেকর্ডের খাতায় নিজেদের নাম তুলেছিল।
সব মিলিয়ে বিপিএল ২০২৬ নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য এখন পর্যন্ত শুধুই অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান আর চাপের গল্প। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে এই আসরটি তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে ভুল কারণে।