
কর্নার থেকে নিখুঁত হেডে জাল কাঁপিয়ে ম্যাচে প্রথম এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। গোলটির নায়ক ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। কিছুক্ষণ পর নিজেই আদায় করা পেনাল্টিতে গোল করে ব্যবধান বাড়ান তিনি। হ্যাটট্রিকের সুযোগও সামনে এসেছিল, কিন্তু শেষ দিকে নেওয়া আরেকটি পেনাল্টি ক্রসবারে মেরে সেই সম্ভাবনা নষ্ট করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
কেইনের জোড়া গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে সহজ জয় পায় বায়ার্ন। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বেলজিয়ান ক্লাব ইউনিয়ন সাঁ-জিলোয়াজকে ২-০ গোলে হারায় ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখে একজন কমে গেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি জার্মান জায়ান্টরা।
এই জয়ের ফলে লিগ পর্বে আরেকটি ম্যাচ বাকি থাকতেই ৩৬ দলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শীর্ষ আটে জায়গা নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। আর্সেনালের সঙ্গে সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠায় দুই লেগের নকআউট প্লে-অফের ঝামেলা এড়াল তারা। সাত ম্যাচে ছয় জয় ও এক হারে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে বায়ার্ন। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী সপ্তাহে পিএসভি আইন্দোহোভেনের মুখোমুখি হবে ছয়বারের ইউরোপ সেরা দলটি।
Read More: মেসির মঞ্চে ভাঙচুর ভারতীয়দের,ছাড়লেন মাঠ!
ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য স্বাভাবিক ছন্দে ছিল না বায়ার্ন। ইউয়েফার শাস্তির কারণে পাইরোটেকনিক ব্যবহারের ঘটনায় নিচের স্ট্যান্ড বন্ধ থাকায় ৯,৩০০ জন আলট্রা সমর্থক মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেননি। হয়তো এই অনুপস্থিতিই কিছুটা প্রভাব ফেলেছিল। ম্যাচ শেষে ডিএজেডএনকে অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার বলেন, ‘কোভিড সময়েও আমরা এমন পরিস্থিতি দেখেছি। কিন্তু ভরা গ্যালারিতে খেলা সব সময়ই আলাদা অনুভূতি দেয়—দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ সেটা ছিল না।’
প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছিল ইউনিয়ন সাঁ-জিলোয়াজই। ৩০ মিনিটে বায়ার্নের রক্ষণে ফাঁক গলে একা নয়্যারের সামনে চলে যান প্রমিস ডেভিড। কিন্তু তার হেড গোলকিপারের দিকেই চলে গেলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই গতি বাড়ায় বায়ার্ন। ৫২ মিনিটে মাইকেল ওলিসের নেওয়া সেট-পিস থেকে কাছের পোস্টে হেডে গোল করেন কেইন। মাত্র এক মিনিট পরই গোলরক্ষক কিয়েল স্কারপেনের ফাউলে পেনাল্টি পান তিনি এবং নিজেই সেটি কাজে লাগান। ৩২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের এটি ছিল চলতি মৌসুমে ৩৪তম গোল।
চোটের কারণে সুযোগ পাওয়া কিম মিন-জায়ে ম্যাচের ৬৩ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। আক্রমণে ওঠা রাউল ফ্লোরুচের হাত টেনে ধরায় লাল কার্ডের শাস্তি পেতে হয় দক্ষিণ কোরিয়ার এই ডিফেন্ডারকে।
তবে দশজনের দল হয়েও বায়ার্নের দাপট কমেনি। শেষ দিকে কেইন একটি পেনাল্টি মিস করেন এবং গোলরক্ষককে একা পেয়েও মাইকেল ওলিসে সুযোগ নষ্ট করেন। তবু জয় নিয়ে কোনো শঙ্কা তৈরি হয়নি।
ম্যাচ শেষে কেইন বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা আরও বেশি ইনটেনসিটি নিয়ে খেলতে চেয়েছিলাম এবং সেটা পেরেছি। সঠিক সময়ে গোল করেছি। লাল কার্ডটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও আমরা ১০ জন নিয়েই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।’
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শেষ বাঁশির পর যে হালকা করতালির শব্দ শোনা গেছে, সেটাই যেন সব বলে দেয়। ঘরের মাঠে জয় পেলেও চেলসির পারফরম্যান্সে তৃপ্ত হতে পারেননি সমর্থকরা। সাইপ্রাসের চ্যাম্পিয়ন পাফোস এফসির শক্ত প্রতিরোধ ভাঙতে লন্ডনের ক্লাবটির সময় লাগে ৭৮ মিনিট।
শেষ পর্যন্ত মোইসেস কাইসেদোর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় চেলসি। যদিও ম্যাচজুড়ে ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তারা, কিন্তু আক্রমণে ছিল বেশ নিষ্প্রভ। ২১টি শটের মধ্যে মাত্র সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে চেলসি, বিপরীতে পাফোস চার শটের দুটিই লক্ষ্যে রাখে।
মাঠের বাইরেও চাপ কম ছিল না। ম্যাচ চলাকালে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন দর্শকরা। ধীরগতির ও একঘেয়ে ফুটবলের মাঝে কাইসেদোর গোল এলেও উদযাপনের আবহ খুব একটা তৈরি হয়নি। তবু এই জয়ে সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখল চেলসি। আগামী সপ্তাহে নাপোলির মাঠে জয় পেলেই লক্ষ্য পূরণ হবে।
সাত ম্যাচ শেষে চার জয়, এক ড্র ও দুই হারে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আট নম্বরে চেলসি। আর পাফোস এফসি রয়েছে ৩০ নম্বরে, তাদের পয়েন্ট মাত্র ছয়।
অন্য ম্যাচে পিএসভি আইন্দোহোভেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নিউক্যাসল ইউনাইটেড। গোল করেন ইয়োনে ভিসা, অ্যান্থনি গর্ডন ও হার্ভে বার্নস। এই জয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে উঠেছে নিউক্যাসল।
জুভেন্টাস ২-০ গোলে হারিয়েছে বেনফিকাকে। গোল করেছেন খেপরেন থুরাম-উলিয়েন ও ওয়েস্টন ম্যাককেনি। অ্যাথলেটিক বিলবাও নাটকীয় ম্যাচে ৩-২ গোলে জয় পায় আটালান্টার বিপক্ষে। গালাতাসারে ও আতলেতিকো মাদ্রিদের ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়। আর আজারবাইজানের ক্লাব কারাবাখ এফকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট।