
ভারতের যুবাদের সেমিফাইনালে হারিয়ে বাংলাদেশ যুবারা এখন ফাইনালে। ভারতের ১৮৯ রানের বাঁধা পেড়িয়ে যায় বাংলাদেশ ৪ উইকেট হাতে রেখেই। বাংলাদেশ অবশ্য ভারতে আটকাতে পারত ১০০ রান হবার আগেই। তবে ৭ম উইকেটের জুটিতে ভারত শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ১৮৯ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়।

ভারতকে সেমিতে আটকিয়ে বাংলাদেশী যুবাদের জয় উল্লাস | ছবিঃ ফাইল
ডুবাইতে বাংলাদেশ টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। ইনিংসের ২য় বলেই আদার্শ সিংকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে, ১ম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ ও মারুফ ম্রিধা। মাত্র ১৩ রানেই ভারতের যুবাদের ৩ উইকেট নেই। তবে সেখান থেকে ভারত আসতে আসতে ম্যাচে ফেরা শুরু করে।
৬১ রানে পরপর দুটি উইকেট পড়লেও,সেখান থেকে মুশির খান ও আভিশেক মিলে ৮৪ রানের অসাধারণ এক জুটি গড়ে। এই জুটি যদি না হত,তাহলে ভারতকে ১০০ রানের আগেই আটকে ফেলতে পারত বাংলাদেশ।
মুশির খান নিজের ব্যাক্তি অর্ধশত রান পূর্নের পরপরই কাটা পড়েন মাহফুজুর রহমান রাব্বির বলে। মুরুগান আভিশেককে ৬৪ রানে ফিরিয়ে নিজের ব্যাক্তিগত ৪র্থ নম্বর শিকার পূরণ করেন মারুফ। ভারতকে অল্প রানে আটকাতে মারুফ ৪টি,২টি করে নেন জীবন ও বর্ষন এবং ১টি উইকেট রাব্বি নেন।
ভারতের এই স্বল্প রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে এসে বাংলাদেশের যুবারাও শুরুতে সুবিধা করতে পারেনি। ২য় ইনিংসের প্রথম ওভারের ৫ম বলে জিশান আলম তার নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন। বাংলাদেশ প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে ৩৪ রান সংগ্রহ করে ৩ উইকেটের বিনিময়ে। সেই উইকেটগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের হয়ে এই টুর্নামেন্টের সেরা রান সংগ্রাহক শিবলী। তিনি অবশ্য রান আউটের শিকার হন। তার অপর প্রান্তে ছিল আরিফুল ইসলাম। যিনি কিনা আহরারকে নিয়ে ১৩৮ রানের জুটি গড়েন। তিনি নিজের ৯৪ এবং দলের ১৭২ রানে কাটা পড়েন। অর্ধেকের বেশি কাজ তিনি একাই শেষ করে দেন।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয় পায়। কিন্তু সেটা হতে পারত ৫ কিংবা ৬ উইকেটের। কিছু হালকা পর্যায়ের শর্টের মাধ্যমে উইকেট গুলো উপহার দিয়ে আসেন বাংলার যুবারা। ভারতের হয়ে ৩টি উইকেট নেন নামান টিওয়ারী এবং রাজ ২টি উইকেট শিকার করেন।
ভারতকে হারাতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস তুলনায় বোলিং ইনিংস বেশি সাহায্য করেছে। তাই সেরা খেলোয়াড়রের পুরুষ্কারটাও একজন বোলার পেয়েছেন। তিনি হলেন মারুফ ম্রিধা। যিনি একাই নিয়েছেন ভারতের ৫ ভাগের ২ ভাগ উইকেট(৪টি)।
সেমিফাইনালের অপর পাশে নিজেদের গ্রুপে থাকা ওমান যুবাদের ফের প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এবার আর গ্রুপে নয়,সরাসরি ফাইনালে। কারন তারা পাকিস্তান যুবাদের ১১ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। আগামী রবিবার(১৭ই ডিসেম্বর,২০২৩) অনুষ্ঠিত হবে অনূর্ধ্ব এশিয়া কাপ ২০২৩ এর ফাইনাল।