
রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার সময় এন্দ্রিককে ঘিরে ছিল বিশাল প্রত্যাশা। কিন্তু সেই প্রত্যাশার চাপ আর সুযোগের অভাবে ব্রাজিলিয়ান এই তরুণ ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারে যেন নেমে আসে হতাশার ছায়া। তবে সময় বদলেছে। নতুন ক্লাব, নতুন পরিবেশে এসে যেন আবার নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন এন্দ্রিক। ফরাসি ক্লাব লিঁওতে ধারে যোগ দিয়েই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন তিনি।
লিগ ওয়ানে গতকাল মেৎজের মাঠে ৫-২ গোলের বড় জয় পায় লিঁও। ম্যাচটিতে দলের হয়ে তিনটি গোল করে হ্যাটট্রিক করেন ১৯ বছর বয়সী এন্দ্রিক। ম্যাচের ১১ মিনিটেই প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোল, আর ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে লিঁও ও লিগ ওয়ানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে তিন গোল করার রেকর্ড গড়েছেন এন্দ্রিক। ১৯ বছর ১৮৮ দিনে হ্যাটট্রিক করে তিনি ভেঙেছেন বর্ণার্ড লাকমবের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। একবিংশ শতাব্দীতে তার চেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন শুধু জেরেমি মেনেজ, কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে।
গত ডিসেম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে লিঁওতে যোগ দেন এন্দ্রিক। নতুন ক্লাবে প্রথম তিন ম্যাচেই করেছেন চার গোল, পাশাপাশি একটি গোলে অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি। লিঁওর ইতিহাসে নতুন কোনো ফুটবলারের জন্য এটি অন্যতম সেরা শুরু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে শেষ ষোলো নিশ্চিত বায়ার্ন মিউনিখ
মেৎজের বিপক্ষে ম্যাচে তার প্রথম গোলটি আসে অধিনায়ক কোরেন্টিন টোলিসোর নিখুঁত ক্রস থেকে। বাঁ পায়ের ফ্লিকে বল জালে পাঠান এন্দ্রিক। দ্বিতীয় গোলের সময় ডান দিক থেকে টাইলার মর্টনের পাস পেয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় গোলকিপারকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। আর শেষদিকে নিজের আদায় করা পেনাল্টি থেকে গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।
লিঁওর হয়ে বাকি দুটি গোল করেন রুবেন ক্লুইভার্ট এবং টাইলার মর্টন। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে লিঁও। ১৯ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৩৬ পয়েন্ট। একই সংখ্যক ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পিএসজি।
রিয়ালে যেখানে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন, সেখানে লিঁওতে এসে এত দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার রহস্য জানাতে গিয়ে এন্দ্রিক বলেন, মাঠে ফিরে নিজের হাসি ফিরে পাওয়া তার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি জানান, নতুন দলে সবাই তাকে আপন করে নিয়েছে, পরিবেশটা দারুণ এবং এখানেই তিনি নিজেকে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
ধারে যাওয়ার জন্য লিঁওকেই বেছে নেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেন এন্দ্রিক। তার মতে, লিঁওর খেলার ধরণ তার সাবেক ক্লাব পালমেইরাসের মতো, যেখানে তিনি ফলস নাইনের ভূমিকায় খেলতেন। এই স্টাইলেই তিনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই দলকে সাহায্য করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, লিঁওতে এসে এন্দ্রিক যেন আবার নতুন করে জন্ম পেলেন। হতাশা পেছনে ফেলে নতুন অধ্যায়ে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান তরুণ।