
দুই ক্লাবের মধ্যে সম্পর্ক কখনোই খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল না, বিশেষ করে ২০০৮–০৯ ও ২০১১–১২ মৌসুমে টানা দুটি স্মরণীয় ইউএফএ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল মুখোমুখির কারণে। সেই সময়ের নাটকীয় মুহূর্ত, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলোই দুই দলের দ্বন্দ্বকে বছরের পর বছর আরও তীব্র করেছে।

বার্সেলোনা-চেলসি । গেটি ইমেজ
বিশেষ করে ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আজও আলোচিত। আগের কয়েক মৌসুমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন “বঞ্চিত” হয়েছিল বলে মনে করা চেলসি সে বছর ক্যাম্প ন্যু’তে দুর্দান্ত প্রতিরক্ষামূলক ফুটবল উপহার দেয়। দশ জন নিয়ে খেলেও বার্সেলোনাকে গোলের সামনে বারবার আটকে দেয় তারা। সেই ম্যাচ ছিল নিখাদ জেদ, ঐক্য ও লড়াইয়ের প্রতীক, যার ফলে বার্সেলোনা নিজেদের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি এবং চেলসি শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠে যায়।
এরপর সময় বদলেছে। অ্যান্টোনিও কন্তে ছিলেন চেলসির কোচ যখন সর্বশেষ বার্সেলোনা স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এসেছিল। সেদিন লিওনেল মেসির গোলেই ১–১ ড্র করেছিল কাতালানরা। তবে বর্তমান বার্সেলোনা মনে করে, তাদের দলে নতুন এক মেসি তৈরি হচ্ছে—লামিন ইয়ামাল। মাত্র কিশোর বয়সেই অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। পশ্চিম লন্ডনের ম্যাচে চেলসির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে এই ছোট্ট বিস্ময়কে নিয়ন্ত্রণে রাখা। যদি ইয়ামালকে থামাতে না পারে, তবে নিজেদের মাঠে তারা কাঙ্ক্ষিত ‘স্টেটমেন্ট উইন’ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা এই মৌসুমে বহুবার দেখিয়েছে যে তাদের ডিফেন্সে ফাঁকফোকর আছে। প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে গিয়ে দলটি মাঝে মাঝে বিপাকে পড়ে। তবে চেলসির অবস্থাও খুব আলাদা নয়। তারাও বারবার রক্ষণের ভুলে ম্যাচ হাতছাড়া করেছে, বিশেষ করে দ্রুতগতির আক্রমণের সময়। তাই দুই দলের দুর্বল ডিফেন্স এবং শক্তিশালী আক্রমণভাগ বিবেচনায় অনেকেই মনে করছেন, ম্যাচটি হতে পারে গোলের বন্যায় ভাসানো এক মহারণ।
আরও পড়ুনঃ
ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনলালে পর্তুগাল
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রচারণায় খেলোয়াড়দের ব্যবহার নিষিদ্ধ
চেলসির হয়ে আক্রমণে স্টার্লিং, এনকুংকু, এস্তেভাওরা ব্যবধান গড়ে দিতে পারে—যদি বার্সেলোনার ডিফেন্সের সুযোগ নিতে পারে। বিপরীতে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে লেভানদোভস্কি, ফেরান তোরেস, ইয়ামালদের মতো খেলোয়াড় আছে যারা মুহূর্তেই ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে পারে।
দুই দলের বর্তমান ফর্ম, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস, এবং অতীতের উত্তপ্ত ইতিহাস মিলিয়ে ম্যাচটির আবহ ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ। এমন এক রাতে গোলের সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সম্ভাব্য ফলাফল: চেলসি ২–৪ বার্সেলোনা