
ভারতে আয়োজিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসব আশঙ্কার কারণেই বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তা গ্রহণ না করে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সেখানে খেলা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি একাধিক দেশ বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটে, তাহলে ভারতের জন্য ভবিষ্যতে অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, অলিম্পিকের সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে নিজেদের গ্রহণযোগ্য রাখতে হলে ভারতকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং ক্রীড়া সম্পর্ক উন্নত করতে হবে। বর্তমানে এই দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের আগে বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল অস্ট্রেলিয়া!
অলিম্পিক সনদ অনুযায়ী, ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বায়ত্তশাসিত হতে হয়। নিজেদের নিয়ম-কানুন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতেই থাকতে হবে। এই নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সনদের ৫০.২ ধারায়, যেখানে অলিম্পিক গেমসে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো প্রকাশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইওসি তাদের নীতিমালার প্রশ্নে যে কঠোর, তার উদাহরণও রয়েছে। গত অক্টোবরে বিশ্ব আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় ইন্দোনেশিয়াকে ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজনের সুযোগ থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ভারত ২০৩৬ সালে আহমেদাবাদে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। তবে এই দৌড়ে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার। এর আগে ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করার কথা রয়েছে ভারতের।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে ইতোমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে ভারত। তার ওপর নিপাহ ভাইরাসের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ফলে ভবিষ্যতে যদি আরও কোনো দেশ বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে অলিম্পিকের আয়োজক হওয়ার পথে ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।