
২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে পাকিস্তান—এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রতিবেশী ভারতকে ঘিরে একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছে দেশটি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে যে ম্যাচটি রয়েছে, সেখানে মাঠে নামবে না পাকিস্তান দল।
আজ সন্ধ্যা ৬টায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয় পাকিস্তান সরকার।
বৈঠকের পর পাকিস্তান সরকারের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ অংশ নেওয়ার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে সরকারিভাবে অনুমতি দেওয়া হলো।’
আরও পড়ুনঃ নিরাপত্তা ও নিপাহ আতঙ্কে বিশ্বকাপ অনিশ্চিত, অলিম্পিক স্বপ্নে ধাক্কা ভারতের
একই সঙ্গে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ‘তবে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল অংশ নেবে না।’
সরকারি এই বিবৃতির বরাতে ডন, জিও নিউজসহ একাধিক পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম খবরটি প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদস্বরূপ পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে—এমন গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। পিসিবির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, সরকারিভাবে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সরকার, যদিও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা থেকে। বিষয়টি ধীরে ধীরে দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে রূপ নেয়। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়।
২১ জানুয়ারি আইসিসির বোর্ডসভা শেষে জানানো হয়, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে। তবে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা।