
সুপার সিক্সে টিকে থাকার লড়াইয়ে নামলেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে হার মেনে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশকে। সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না লাল–সবুজদের সামনে। কিন্তু বুলাওয়েতে ইংলিশদের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের ইতি টানতে হলো আজিজুল হাকিমদের।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই ৩৮.১ ওভারে মাত্র ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় ইনিংস। ছোট এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫৫ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। আল ফাহাদের প্রথম স্পেলে দলীয় মাত্র ৩ রানে জোসেফ মোরেসের উইকেট হারায় তারা। পরে আবার ৩৯ রানে আরেকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে ইংলিশ শিবির।
তবে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন থমাস রেও ও বেন ডাওকিনস। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ ৭৭ রানের জুটি। ডাওকিনস ২৭ রানে ফিরে গেলেও জয় তখন খুব কাছেই। শেষ পর্যন্ত থমাস রেও অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৫০ বল খেলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার।
আরও পড়ুনঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়ে ভারতে খেলবে বাংলাদেশ!
বাংলাদেশের পক্ষে বোলিংয়ে আল ফাহাদ নেন সর্বোচ্চ ২টি উইকেট। অপর উইকেটটি পান সামিউন বাশির।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে পুরো ম্যাচজুড়েই ছন্দ খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে প্রথমবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেও সুবিধা করতে পারেননি আজিজুলরা। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ও রিফাত বেগের ৪৬ রানের জুটিই ছিল দলের সর্বোচ্চ।
এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ৯০ থেকে ১৩৬ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে ইনিংস পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই জাওয়াদ আবরারকে মাত্র ১ রানে ফিরিয়ে দেন ইংল্যান্ডের পেসার সেবাস্তিয়ান মরগান। রিফাত বেগ করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান। অধিনায়ক আজিজুল খেলেন ৪৬ বল, তবে তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২০ রান। উইকেটকিপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ৩৪ বলে করেন ২৫ রান।
ইংল্যান্ডের বোলিংয়ে সেবাস্তিয়ান মরগান ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি ২৮ রানে নেন ৩টি উইকেট। রাফলি আলবার্ট ও ম্যানি লাম্বসেন নেন ২টি করে উইকেট।
এই হারের ফলে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল। এখন ৩১ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে তারা শুধুই নিয়মরক্ষার জন্য।